রংপুরের বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান রপ্তানিমুখী টুপি সেলাই

রংপুরের হারাগাছ পৌর এলাকা ও এর আশপাশের নারীরা নকশি টুপি সেলাইয়ের কাজ করছেন। এ টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। এ এলাকায় বিড়ি তৈরির কারখানা বেশি। কিন্তু ইদানিং স্বল্প পরিসরে হলেও বিড়ি শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানে আগ্রহী করে তুলছে এ উদ্যোগ।
 
পৌর এলাকা, সারাই এবং হারাগাছের ৭ শতাধিক পরিবারের নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে টুপি সেলাই করে বাড়তি আয় করছেন। অনেকেই বিড়ি কারখানার চরম অস্বাস্থ্যকর কাজ ছেড়ে দিয়ে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এতে বেশ ভালো আয় করছেন তারা। এ দেখে অন্য নারীরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 
 
তামাকবিরোধী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) প্রকল্প সমন্বয়ক এহসানুল আমিন ইমন জানান, হারাগাছ ও এর আশপাশে নিবন্ধিত বিড়ি কারখানা প্রায় ২১টি। শ্রমিক প্রায় ১২শ। তবে অনিবন্ধিত কারখানার সংখ্যাও কম নয়। সব মিলিয়ে তামাক কারখানার শ্রমিক অন্তত ২০ হাজার হবে বলে দাবি করেন তিনি। এ শ্রমিকরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। দেখা যায়, তাদের গড় আয়ু অনেক কম। সেক্ষেত্রে টুপি তৈরির উদ্যোগ একটি আশার আলো বলেই মনে করছেন তিনি। 
 
চর নজিরদহের বাসিন্দা লাভলি বেগম জানান, তিনি আগে বিড়ি তৈরি করতেন। দীর্ঘসময় তামাক পাতার সংস্পর্শে থাকায় প্রায়ই শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন। শেষ পর্যন্ত কাজ ছেড়ে দেন। দুই বছর ধরে টুপি সেলাইয়ের কাজ করছেন।
 
মেনাজ বাজার এলাকার মোকছেদা বেগম এ পেশায় আছেন তিন বছর ধরে। স্বামী ক্ষুদ্র কৃষক। বাড়ির কাজের ফাঁকে টুপি সেলাই করে মাসে গড়ে দেড় হাজার টাকা আয় করছেন। এতে করে দুই সন্তারে লেখাপড়াসহ সংসারের নানা প্রায়াজনে সহযোগিতা করতে পারছেন তিনি। 
 
কাউনিয়া উপজেলার হাফেজ আব্দুল আউয়াল এ টুপি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। আউয়ালের এজেন্টরা বিভিন্ন চরে নারীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করেন। অল্প কারুকাজ সম্পন্ন প্রতি টুপিতে ৩৫০ টাকা এবং বেশি নকশাদার টুপিতে সর্বনিম্ন ৭শত টাকা মজুরি পান তারা। একটি টুপি তৈরিতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লাগে। 
 
আব্দুল আউয়ালের এজেন্ট রাজু আহমেদ বলেন, কাউনিয়া উপজেলায় তার মতো এজেন্ট আছে ৩০ জনেরও বেশি। প্রতি টুপিতে তারা কমিশন পান ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এ টুপি সাধারণত যায় ওমানে। সেখানে একেকটি টুপি বাংলাদেশী মুদ্রায় কমপক্ষে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আড়াই বা তিন মাস পরপর তারা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টুপি পাঠান।
 
ইত্তেফাক/নূহু