সাভারে বহুতল ভবনে আগুন

সাভারে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে ভবনটির বাসিন্দারা দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনে বহুতল ভবনটির বেজমেন্টে থাকা কয়েকটি গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি পুড়ে গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সাভার থানা রোডে অবস্থিত ১২ তলা বিশিষ্ট বিসমিল্লাহ টাওয়ারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 
 
ভবনটির বেজমেন্টে থাকা বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারনে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীদের আগুন নিভাতে বেগ পেতে হয়। এক পর্যায়ে ধোয়া বাড়তে শুরু করলে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরসহ ডিইপিজেড, ধামরাই ও কল্যাণপুর থেকে আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ৮ টি ইউনিট প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। 
 
বিসমিল্লাহ শপিং টাওয়ারের ফ্লাট মালিক সমিতির সভাপতি আজমল আমিন বলেন, ভবনটির ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীর গাফিলতির কারনেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ভবনটিতে বৈদ্যুতিক সাব স্টেশনের ব্যবস্থা করার জন্য বলা হলেও তারা তা করেনি।  যে কারনে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
 
ভবনটির বাসিন্দা মোঃ নুরুল আমিন বলেন, ১২ তলা ভবনটিতে ৪৪টি ফ্ল্যাট এবং ২২টি দোকান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৬ তলা ভবনের ওপরে কোন স্থাপনা নির্মান করলে বিদ্যুতের জন্য নিজস্ব সাব স্টেশন স্থাপন করতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে ডেভলপার কোম্পানি এবং পল্লী বিদ্যুৎকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও তারা কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 
 
এ বিষয়ে ভবনটির ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির ভাইস চেয়াম্যান ইউসুফ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
 
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, আমরা ভবন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার  চিঠি দিলেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি।
 
সাব স্টেশন ছাড়া কিভাবে বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ অব্যাহত রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা টেকনিক্যাল বিষয়। তাই কিছু জানতে হলে অফিসে এসে সদস্য সেবা (এমএস) শাখায় যোগাযোগ করুন।
 
ফায়ার সার্ভিসের জোন-৫ এর কমান্ডার মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 
এদিকে বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ওই এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে আসলে সাভার থানা রোডে দীর্ঘক্ষন যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীদের উদ্যোগে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। 
 
আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসানসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু