লামা উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের পোপা মৌজার বিভিন্ন পাড়া থেকে শতাধিক পরিবারের লোকজনকে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে বুধবার দিনভর অনেক পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষ বাড়িঘর ফেলে বলিয়ারচর ও লামা বাজারে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, পোপা মৌজার গিলাপাড়ায় ও পোপা হেডম্যান পাড়ায় বর্তমানে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে লামা ইউনিয়নের নকশারঝিরি এলাকায় যৌথবাহিনীর সাথে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসীবাহিনী যৌথবাহিনীর সাথে গোলাগুলির পর পোপা হেডম্যান পাড়ার দিকে সরে গেছে। বুধবার সারাদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে আরো সশস্ত্র সন্ত্রাসী পোপা মৌজায় ৪০ জনের এ সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়ো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নকশারঝিরি এলাকার অধিবাসী মোর্শেদা বেগম জানান, সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছেন। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে বাড়িঘর ছেড়ে বলিয়ারচরে আশ্রয় নিয়েছেন। অপর অধিবাসী মনোয়ারা বেগম জানান, বাড়িঘরে অবস্থান করার মতো নিরাপত্তা তাদের নেই। পুরো এলাকার অধিবাসীরা দলে দলে উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থানের জন্য বাড়িঘর ফেলে চলে আসছেন।
লামা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানান, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা গত এক মাস যাবত্ বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ বাড়িঘরে অবস্থান করতে পারছে না। অস্ত্রধারী এ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি ও লুটপাট করছে এ সব বাড়িঘরে। প্রত্যেক পরিবারকে ১ হাজার টাকা এবং মুদি দোকানদারদের ৩ হাজার টাকা বাত্সরিক চাঁদা দেয়ার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
তিনি জানান, তারা জলপাই রঙ্গের পোশাক পরা এবং তাদের কাছে ভারি অস্ত্র রয়েছে। মঙ্গলবার ছোট বমু ও মেরাখোলাসহ লামা ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ায় এ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজিসহ তাণ্ডব চালিয়েছে। সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। অনেক ত্রিপুরা ও ম্রো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে লামা বাজারে অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে চাকমা, মার্মা ও ত্রিপুরা যুবক রয়েছে। তাদের প্রায় সকলের কাছেই রয়েছে ভারি অস্ত্র।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশসহ যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।