গত ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের শেষের পাতায় ‘সরকারি টাকার টোপদিয়ে গরীবদের কাছে চাঁদাবাজি। রাজশাহীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি সদস্যরা! শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত খবরে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুঠিয়ার বেলপুকুর ইউনিয়নে সরেজমিন তদন্তে যান রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের। পরে পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে উপজেলার বেলপুকুরিয়া, বানেশ্বর ও জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল সদস্য, ট্যাগ অফিসার ও সাংবাদিক সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবর সঠিক বলে জানান।
সভায় বেলপুকুর ইউনিয়নের গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে সরকারি প্রকল্পে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে সংগৃহীত অর্থ উপকারভোগীদের ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময় উপকারভোগীদের নিকট থেকে অর্থ নেয়ার অভিযোগে বেলপুকুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহবুব হোসেন ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। তবে শুক্রবারের মধ্যে সকলের টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করায় তাদের ছেড়েও দেয়া হয়েছে।
এদিকে সকলে যেনো টাকা ফেরত পান তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদে বৈঠককে বসেন জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের। ওই বৈঠকে পুঠিয়া ও বেলপুকুর থানার ওসি ছাড়াও তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ডাকা হয়। যে তিনটি ইউনিয়নে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইউএনও বলেন, বৈঠক থেকে ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও মাহবুব হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। বৈঠক শেষে শুক্রবারের মধ্যে তারা সকলকে টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেন। এ জন্য তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ এ সুযোগ দেয়া না হলে উপকারভোগীরা টাকা ফেরত পাবেন না। তবে শুক্রবারের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান ইউএনও।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনও দাখিল করেন। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে তিনটি ইউনিয়নের ৩০৪ উপকারভোগী পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। যাদের অনেকের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ