সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দিনাজপুরের ফুলবাড়ির সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করছে থ্রি-হুইলার ও রিকশাভ্যান। ট্রাফিক পুলিশের এ ব্যাপারে তেমন কোন অভিযান না থাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ সব যান।
শুক্রবার ফুলবাড়ি-দিনাজপুর-ফুলবাড়ি-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে তিন চাকার বাহনগুলো চলতে দেখা গেছে।
সড়কে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির জন্য ইঞ্জিনচালিত থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশাভ্যানসহ অযান্ত্রিক যানবাহন বহুলাংশে দায়ী বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীসহ চাঁদাবাজদেরকে সন্তুষ্ট করেই এসব থ্রি-হুইলার সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলছে। পৌর এলাকার শাখা যমুনা নদীর পূর্বপ্রান্তে, পশ্চিমপ্রান্তে, ঢাকা মোড়, পার্বতীপুর বাসস্টান্ড, অবকাশ সিনেমা হলের সামনে, টিটিই মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যেই এসব যানের চালকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়ে হচ্ছে বখরা।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাক মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটো রিকশা কিনে সেই রিকশার আয়েই তার পরিবার চলছে। তবে রিকশা নিয়ে সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নামলেই বখরা গুণতে হয়। বখরা না দিলে মামলা মোকদ্দমাসহ সড়কে রিকশা চালাতে দেয় না। উপায় না পেয়ে বখরা দিয়েই রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
IMG0
ইউপি চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ শাহ মো. আব্দুল কুদ্দুস ও মো. মানিক রতন বলেন, শুধু সড়ক ও মহাসড়কেই নয়, সবচেয়ে তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে গ্রামাঞ্চলের সড়ক দিয়ে। বন্ধ করা তো দুরের কথা প্রতিদিনই প্রতিটি গ্রামেই দু-চারটি করে ব্যাটারি চালিত এসব তিন চাকার যানবাহন নামছে। ফলে এসব অবৈধ যানের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ মানুষ।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসিম হাবীব বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শুধুমাত্র পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন গণসচেতনতা। সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধ করা সম্ভব।
ইত্তেফাক/জেডএইচ