মিহির রঞ্জন তালুকদার
প্রভাষক- বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট
ন্যানো টেকনোলজি
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তোমাদের জন্য আজ থাকছে প্রথম অধ্যায় থেকে ন্যানো টেকনোলজি। আমরা যদি প্রথম কম্পিউটার মার্ক-১ এর কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই সেটি ছিল বিশাল আকারের। যার দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট, লম্বা ৮ ফুট এবং ওজন ছিল প্রায় ৫ টন। Integrated Circuit (IC) আবিষ্কারের ফলে কম্পিউটারের আকার আমরাতো দেখতেই পাচ্ছি, পারসোনাল কম্পিউটার থেকে ল্যাপটপ এমনকি এখন স্মার্ট ফোনেও কম্পিউটারের প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনি চিন্তা কীভাবে প্রযুক্তিকে সহজতর করা যায় বড় থেকে ছোট আকারে নিয়ে আসা যায়, সেই ধারনা থেকেই ন্যানো টেকনোলজির উত্পত্তি। আমেরিকান পদার্থবিদ রিচার্ড ফেইনম্যান (Richard Feynman) ১৯৫৯ সালে প্রথম ন্যানো টেকনোলজি সম্পর্কে ধারনা দেন এ জন্য Richard Feynman ‘কে ন্যানো টেকনোলজির জনক বলা হয়।
ন্যানো টেকনোলজি: টেকনোলজি শব্দের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। যার বাংলা হচ্ছে প্রযুক্তি। অর্থাত্ কোনো কাজ করতে আমরা যে কৌশল বা পন্থা অবলম্বন করি তাই হলো টেকনোলজি।
একটি চুলের ব্যাসকে যদি আমরা এক লক্ষ ভাগ করি তাহলে একভাগ হচ্ছে এক ন্যানোমিটার। অর্থাত্ চুলের ব্যাস হচ্ছে এক লক্ষ ন্যানোমিটার। কাজেই বুঝা যাচ্ছে এটি কত ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে কাজ করার একটি প্রযুক্তি। তাহলে আমরা বলতে পারি পদার্থকে ক্ষুদ্র বা আনবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যাই ন্যানোটেকনোলজি। Nano শব্দটি গ্রিক শব্দ Nanos থেকে এসেছে।
অনলাইন ডিকশনারি Merriam-Webster অনুসারে ন্যানোটেকনোলজির সংজ্ঞা হলো:
“The science of manipulaying materials on an atomic or molecular scale especially to build microscopic devices (as robots” অর্থাত্ ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তি হলো পারমানবিক বা আনবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস ( যেমন-রোবট) তৈরি করার জন্য ধাতব ও বস্তুকে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান।
আমরা জানি পরিমাপের একক হচ্ছে মিটার। তাহলে ১ ন্যানোমিটার হচ্ছে এক মিটারের একশত কোটি ভাগের এক ভাগ। অর্থাত্ ১ ন্যানোমিটার= ১০০০০০০০০০ বা ১০-৯ । (টেন টু দ্যা পাওয়ার মাইনাস নাইন) এটি তোমরা অনেকেই বুঝ না। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের কিছুটা জানা থাকলে অন্যান্য বিভাগের ছাত্রদের জন্য নতুন। এটিকে বলা হয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। আমরা যদি একশকোটি লিখতে যাই তাহলে আমাদের ১ এর পর ৯টি শূন্য দিতে হয় কিন্তু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সহজেই ১ এর পর ৯টি শূন্যের পরিবর্তে ১০ এর উপরে -৯ লিখলেই হয়।
পরের অংশ আগামীকাল