দাবীকৃত ঘুষের পুরো টাকা না পাওয়ায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামে উদ্বোধনের অন্তত ৫ মাস পর বঞ্চিত সেই ৬৫ পরিবার অবশেষে বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছে। গত শনিবার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৭ পাতায় ‘মান্দায় ঘুষ না দেয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ সংবাদ প্রকাশের পর রবিবার মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পরিবারগুলোতে মিটার লাগিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করে। এ দিকে জুনিয়র প্রকৌশলী আব্দুস সালামের ঘুষ দাবির বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এজিএম (এমএস) হাসান আলী, জুনিয়র প্রকৌশলী (ইআরসি) হেলালুর রহমান ও মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম এএসএম সুফিউল্লাহ সাদ। তদন্ত কমিটি গত রবিবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জুনিয়র প্রকৌশলী (ইআরসি) হেলালুর রহমান জানান, তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, ট্রান্সফরমার স্থাপন ও বাড়ি-বাড়ি মিটার না লাগিয়ে অন্তত পাঁচ মাস আগে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করা হয়। এর কিছুদিন পর পরিবারগুলোর জন্য ৬৫টি মিটার প্রদান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবারগুলোতে সংযোগ দেয়া হয়নি।
উদ্বোধনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের সংযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের ৬৫ পরিবার। মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে দফায় দফায় ধর্না দিলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। অবশেষে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে গত মঙ্গলবার ওই এলাকায় মিটার সংযোগ দেয়ার জন্য জুনিয়র প্রকৌশলী আব্দুস সালামের নির্দেশে লাইনম্যান পাঠানো হয়।
লাইনম্যানরা কাজ শুরুর আগে টাকা দাবি করলে গ্রাহক জসিম উদ্দিন ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু আব্দুস সালামের দাবীকৃত আরও ২০ হাজার টাকা না পাওয়ায় তাদের অফিসে ফিরিয়ে নেয়া হয়। ঘটনায় ওইদিন মান্দা প্রেসক্লাবে প্রকৌশলী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ইত্তেফাক/জেডএইচ