ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাতকে হত্যা ঘটনায় ৬মাস পর নুশরাতের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ হোসেন মেয়েকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়। এ অবস্থায় শিশু নুশরাতকে ধর্ষণ শেষে হত্যার বিচারের কোন কূল-কিনারা না হতেই এবার উল্টো লুটপাটের মামলার আসামি হলেন নুশরাতের বাবা এরশাদ হোসেন। গত ১ আগস্ট ঘাতক রুবেলের পিতা সিরাজুল ইসলাম লুটপাটকৃত ১৫লাখ টাকার ক্ষতিপুরনের দাবিতে নিহত নুশরাতের পিতা মোঃ এরশাদ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জুডিশিয়াল আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ২১৯/১৮ মামলা করেন। পরে সেই মোতাবেক রামগঞ্জ থানার ওসিকে আগামি ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। তারই আলোকে রামগঞ্জ থানার এসআই মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
 
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নুশরাতের পরিবারের মধ্যে আহাজারি চরম আকার ধারণ করে। মেয়ে হারানোর শোক সেরে না উঠতেই এভাবে উল্টো মিথ্যে মামলার আসামি হওয়ার খবরে উপজেলাব্যাপী সকল শ্রেনী-পেশার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ ও মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। মেয়েকে হারিয়ে রাত-দিন শুধু আহাজারি করছেন নুশরাতের বাবা-মা।
 
লুটপাট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার এজাহারের কপি হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
 
লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান, নুশরাত হত্যার পর থেকে জেলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ নুশরাতের পরিবারের পাশে থেকে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আসছে। আর নুশরাতের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা করায় আমি তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
 
রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকম রুহুল আমিন জানান, ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এটা দেশব্যাপী আলোচিত বিষয়। উত্তেজিত লোকজনরাই ঘটনার দিন ধর্ষক রুবেলের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। আর যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন সেখানে নুশরাতের বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।
 
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নজুমুদ্দিন বাড়ীর (কালু মেস্তুরির বাড়ীর) প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজুল রাসূল সুন্নিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান (৭) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
 
ইত্তেফাক/নূহু