নাছিমা খাতুন
‘এক বন্ধুর সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাত্ তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ভেঙে যায়। কারণ, সেই বন্ধুটি আমার কাছ থেকে দু-তিন দিন পরপর টাকা ধার নিত। এক দিন আমি তাকে মজা করে বলেছিলাম, ‘টাকা নেওয়ার জন্যই বোধ হয় তুই আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেছিস।’ তারপর থেকে সে আমার সঙ্গে কথা বলে না, এক বছর হয়ে গেল। আমি চাই, আমাদের বন্ধুত্ব আবার আগের মতো হয়ে যাক। আমি বারবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমি ক্ষমাও চেয়েছি। তবু সে আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমি এখন কী করতে পারি?
এক কিশোরীর এমন আকুতি কারো কাছে খুবই সাধারণ সমস্যা মনে হতে পারে। আবার কারো কাছে এটি কোনো সমস্যার কাতারেই পড়ে না। কিন্তু এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অব্যক্ত কথা কিংবা সমস্যা মনের ভূমিতে জমে এক সময় পাহাড় হয়। তখন সেই কোমল মন এমন ব্যথার পাহাড়ের ভার বহন করতে না পেরে কোনো এক সময় হয়তো বা ভারসাম্যই হারিয়ে ফেলে। হারিয়ে ফেলতে পারে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময়। ঠিক এই সংকটপূর্ণ সময়ে সমস্যায় ভোগা কিশোর-কিশোরীর পাশে বন্ধুসুলভ সহযোগিতার হাত না বাড়ালে হতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনাও।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ এ সমস্যায় ভুগছে। বিশ্বে প্রথম ১০টি রোগের মধ্যে মানসিক রোগ বর্তমানে ৪ নম্বর অবস্থানে আছে। মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড (ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং) ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনিরা রহমান গণমাধ্যমে বলেন, মানসিক রোগ শুরু হয় কিশোর বয়সে। বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মানসিকভাবে অসুস্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে পুরুষ ১৩ শতাংশ এবং নারীর ১৯ শতাংশ মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। বাংলাদেশের মোট জনসংখার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী। কিশোর বয়সে দেহ ও মনে কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। এর মধ্যে মেয়েদের বয়ঃসন্ধির সময়টি উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের কিশোরীর শারীরিক গঠনের পরিবর্তন ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়। এ সময়টা হলো মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল। বয়ঃসন্ধিক্ষণ উপস্থিত হলেই কিশোরীর মনে দেখা দেয় নানা সংকট। এই আবেগঘন বয়সে আবেগতাড়িত নানারকম ভুলের বশীভূত হয় কিশোরীরা। এ বয়সের আবেগ এক ধরনের আত্মপ্রেম। ফলে বিভিন্ন বিষয়ে তারা পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে পরিবারের দূরত্ব বাড়ে। তখন বেশির ভাগ মা-বাবা সন্তানকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার বদলে বকাঝকা, রাগারাগি করেন। যার ফল হিসেবে সন্তান আরো ভুল পথে হাঁটতে পারে।