রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় গত দুই মাস ধরে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ১৫-১৬ দিন ধরে এসব এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা কম দামে বিভিন্ন গাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বসতভিটা ফেলে ঘরবাড়ি এলাকা ছেড়ে দ্রুত অন্যত্র যাচ্ছে। তাদের জমিজমা, বাপ-দাদার বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিঃম্ব হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার জিনিসপত্র অন্যত্র সরাতে পরিবহন খরচ তুলতে উপায় না পেয়ে গাছ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক্ষেত্রে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেকটা কম দামেই বিক্রি করছেন তারা।
দেবগ্রামের লোকমান মেম্বার পাড়ার জালাল সরদার বলেন, ১৬-১৭ বছর বয়সী জাম, আম ও মেহগনিসহ ১১টি গাছ বিক্রি করেছি ১০ হাজার টাকায়। ভাঙ্গন না থাকলে এই গাছগুলির বাজার মূল্য ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বাড়ির জিনিসপত্র নিতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে, উপায় না পেয়ে যে দাম পাচ্ছি, বিক্রি করে দিচ্ছি।
কাওয়ালজানি গ্রামের সবুর মন্ডল (৪৫) বলেন, বাপ-দাদার বসতভিটাসহ প্রায় ৪০বিঘা আবাদী জমি ছিল। জমি থেকে ধান, পাট, উচ্ছে, মরিচ, বেগুন, পোটলসহ বিভিন্ন কৃষি ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু ভাঙ্গনে এখন কিছু নেই। ৪০ বিঘা জমিসহ পুরো ৩০ বছরের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। উপায় না পেয়ে বাড়ির ১৫-১৬টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নামমাত্র কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। কয়েকটি গাছ রেখেছি অন্যত্র বাড়ি করতে কাঠ লাগবে এজন্য।
গোয়ালন্দ থেকে যাওয়া মেজেক আলী বলেন, আমরা তিন ভাই প্রায় ২০দিন ধরে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ির জিনিসপত্র ও গাছপালা ভাড়া টানছি। পারলে কিছু গাছ কিনে নিয়ে বিক্রি করছি। গৃহস্থরা গাছ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করছেন। এতে আমাদের ভাড়া লাগছে না, পাশাপাশি গাছে বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে।
দেবগ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার বলেন, নদীভাঙ্গা মানুষের ঘরবাড়ি সরানোর টাকা নেই। অধিকাংশ পরিবার বাড়িতে থাকা গাছপালা পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই টাকা দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। এই সুযোগে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী থেকে কিছু সুবিধাবাদি লোকজন এসে গাছ কিনে নিচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু