রানপাহাড় টপকে শিরোপা আবাহনীর

 স্পোর্টস রিপোর্টার

এই বছর লিগে আবাহনীর শিরোপা জয়ের জন্য দরকার ছিলো অনেক নাটকীয়তার। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পেছনে থেকে সুপার লিগ শুরু করেছিলো তারা। প্রয়োজন ছিলো রূপগঞ্জের কমপক্ষে দুটি হার এবং নিজেদের সবগুলো জয়। তাই হলো রূপগঞ্জ দুটি ম্যাচ হারলো এবং শেষ ম্যাচে এসে অতিমানবীয় এক ম্যাচ জিতলো আবাহনী।

গতকাল বিকেএসপিতে শেখ জামালের ছুড়ে দেওয়া ৩১৮ রানের লক্ষ্য টপকে ৯ উইকেটে জয় পেলো আবাহনী। রেকর্ডের বন্যা হওয়া এই ম্যাচে দেশের হয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার। আর তাতেই আবাহনী জিতলো ২০তম লিগ শিরোপা। লিস্ট-এ ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকে আবাহনীর এটা তৃতীয় লিগ শিরোপা।

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠের ব্যাটিং উইকেটে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শেখ জামাল। শুরুতে অন্তত সে সিদ্ধান্ত খুব ভালো বলে ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করতে পারেননি। টপ অর্ডারে একমাত্র ওপেনার ফারদিন হাসান ৩৪ রান করেছিলেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের বাকি কেউ বিশ রান পার করতে পারেননি। ফলে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে শেখ জামাল। কিন্তু এরপরই অলরাউন্ডার  তানভির হায়দার পাল্টা আক্রমণ করেন।

শূন্য রানে জীবন পাওয়ার পর রীতিমতো ঝড় তোলেন তানভির। প্রথমে ইলিয়াস সানি, পরে মেহরাব হোসেনের সাথে দুটি বড় জুটিও করেন। সানি ৪৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন। অন্যদিকে মেহরাব ৩৬ বলে করেন ৪৪ রান। আর তানভির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। ১১৫ বলে ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৩২ রান করে উইকেটে ছিলেন এই লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার।

মাশরাফি বিন মুর্তজা শুরুতে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। পরে মেহরাব ও তাইজুলের উইকেটও তুলে নেন। ৪ উইকেট নিয়ে তিনি  ছিলেন আবাহনীর সেরা বোলার।

জবাব দিতে নেমে মহাকাব্যিক এক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আবাহনীর দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি ও সৌম্য সরকার। দু’জনে বাংলাদেশের রেকর্ড ৩১২ রানের জুটি করেন উদ্বোধনী জুটিতে। এটা বাংলাদেশের হয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটের যে কোনো উইকেট জুটির সেরা রেকর্ড। ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন সৌম্য সরকার। আর ঠিক সেঞ্চুরি করে আউট হয়ে যান জহুরুল। ফলে ২ ওভার ৫ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আবাহনী। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী—শেখ জামাল

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ৫০ ওভারে ৩১৭/৯ (তানভির ১৩২*, ইলিয়াস সানি ৪৫, মেহরাব ৪৪, ফারদিন ৩৪; মাশরাফি ৪/৫৬)

আবাহনী লিমিটেড: ৪৭.১ ওভারে ৩১৯/১ (সৌম্য ২০৮*, জহুরুল ১০০)।

ফল: আবাহনী ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সৌম্য সরকার।

পয়েন্ট টেবিল

সুপার লিগ

দল                       ম্যাচ      জয়     পরাজয়     পয়েন্ট     রান রেট

আবাহনী                 ১৬        ১৩     ৩            ২৬          ০.৮৬৬

রুপগঞ্জ                  ১৬        ১৩     ৩            ২৬          ০.৫১৭

প্রাইম দোলেশ্বর       ১৬        ১০     ৬             ২০         -০.০৩৩

শেখ জামাল            ১৬        ৯        ৭            ১৮         ০

প্রাইম ব্যাংক            ১৬        ৮       ৮            ১৬          ০

মোহামেডান            ১৬        ৭       ৯             ১৪         ০.০৬৪

সুপার লিগে উঠতে ব্যর্থ

শাইনপুকুর              ১১        ৫       ৫            ১১          ০.২৪৮

গাজী ক্রিকেটার্স       ১১        ৫       ৬             ১০         -০.০৭৪

খেলাঘর                 ১১        ৩       ৮            ৬            -০.০৯৮

রেলিগেশন লিগ

ব্রাদার্স                   ১৩       ৪       ৯             ৮           -০.৩৮৫

উত্তরা স্পোর্টিং         ১৩       ৪       ৯             ৮           -০.৪৮

বিকেএসপি             ১৩       ২        ১০          ৫           -০.৬৬৬

(প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকছে ব্রাদার্স)

রোল অব অনার

সাল                      চ্যাম্পিয়ন                          রানার্সআপ

২০১৮-১৯         আবাহনী                   রূপগঞ্জ

২০১৭-১৮             আবাহনী                           শেখ জামাল

২০১৬-১৭              গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স            আবাহনী

২০১৫-১৬              আবাহনী                           প্রাইম দোলেশ্বর

২০১৪-১৫             প্রাইম ব্যাংক                       প্রাইম দোলেশ্বর

২০১৩-১৪             গাজী ট্যাঙ্ক ক্রিকেটার্স          শেখ জামাল

*  লিস্ট ‘এ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর