নরসিংদীর শিবপুরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার চৈতন্য এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ২ জন গুলিবিদ্ধ এবং এলাকাবাসীর ইট-পাটকেলের আঘাতে ২ পুলিশ সদস্যসহ মোট ৪জন আহত হয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- চৈতন্য এলাকার খোরশেদ মিয়ার ছেলে অহিদ উল্লা (৩০), বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোহন (৪০)। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ইটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মাহাবুব (৩২) ও বিল্লাল হোসেন (৩১)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডের সন্নিকটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দু’পাশে বিভিন্ন ফলফলাদি ও সবজি বিক্রেতাদের উচ্ছেদের নামে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি শুরু হয়। পুলিশ নিরুপায় হয়ে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে অহিদ ও মোহন গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়। গুলিবিদ্ধসহ আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে ঘটনার পর পর আহতদের দেখতে ও তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ পরিদর্শক) হাফিজুল ইসলাম ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, মহাসড়ক থেকে অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ করতে চৈতন্য এলাকায় অভিযান চালানো কালে অবৈধ ব্যবসায়ীরা পুলিশের কাছ থেকে শর্ট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয় গুলি ছুড়তে। এ ঘটনায় ২ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ