ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৩৮৯৭ ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু এতে অংশ নিয়েছি। আমরা ময়মনসিংহ থেকে গিয়েছিলাম। আমার বন্ধুদের মধ্যে একজনের সিট পড়েছিল আইবিএ বিল্ডিংয়ের ৩২৩ নাম্বার রুমে। পরীক্ষার হলে ঢোকার পর কর্তব্যরত স্যার প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র দিলেন (দুটোই একসঙ্গে লাগানো)। বন্ধুটি সর্বপ্রথম সাধারণ জ্ঞান উত্তর করলেন। এরপর ১৯ মিনিটের সময় বাংলা প্রশ্ন উত্তর করতে গেলেন এবং দেখলেন বাংলা প্রশ্নের পেইজটা সাদা। কোনো প্রশ্ন নাই। কর্তব্যরত স্যার একটা নতুন প্রশ্ন দিলেন। কিন্তু উত্তরপত্র দিলেন না। বন্ধু তখন শিক্ষককে বললেন, স্যার কোনো সমস্যা হবে না? স্যার বললেন, না। তখন তিনি বাংলা এবং ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর করলেন। তারপর আবার ৩৯ মিনিটের সময় প্রথমবার উত্তরের পর যে প্রশ্নগুলো বাকি ছিল সেগুলো উত্তর করতে গেলেন। উত্তর করার সময় একটা বিষয় লক্ষ করলেন প্রথম প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্নের প্রশ্ন নম্বর মেলে না। কারণ উত্তরপত্রে একটা গোপন কোড থাকে যা নাকি ঐ প্রশ্নের সঙ্গেই মেলে। অন্য  কোনো  প্রশ্নের সঙ্গে মেলে না। স্যারকে বলার পর স্যার আবার প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র দিলেন ৪৩-৪৪  মিনিটের দিকে। তখন বন্ধুটি নিজেকে স্থির রেখে পরীক্ষা দিয়ে এলেন ১৬-১৭ মিনিটে। হল থেকে বের হয়ে সবাইকে বলার পর সবাই অবাক। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়েও প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই! বন্ধুটির চান্স পাওয়ার কথা। কিন্তু এক অনভিজ্ঞ শিক্ষকের কারণে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পড়া হলো না। এমন আর কত ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষকের কারণে বলি হতে হচ্ছে কে জানে। পরিশেষে, কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন—আর একটি ছাত্রকেও যাতে এইরকম অবস্থার সম্মুখীন হতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

মাজেদ

পপুলেশন সায়েন্সেস, 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়