কুমারখালীতে সোনালী হস্তশিল্পের দোকানে সন্ত্রাসী হামলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত কাজে বাধা ও কর্মচারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পৌরসভাধীন শেরকান্দি গ্রামের হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
 
হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক দোকানপাট বন্ধ করে রাখে ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। হামলায় সোনালী হস্তশিল্পের কর্মচারী নয়ন (২৪) গুরুত্বর আহত হন। তিনি উপজেলা তেবাড়িয়া গ্রামের মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম উদ্দিন কুমারখালী থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
 
ঐ মামলায় পুলিশ হামলাকারী রাসেল কবির, রাসেদুল ইসলাম রানা ও রেজাউল হক নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় বাদী জসিম উদ্দিনকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি প্রদান করছে আব্দুল মজিদ ও তার সগযোগী।
 
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভাধীন হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে অবস্থিত জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত করতে যায় তার কর্মচারী নয়ন। এ সময় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার পুরাতন চড়াইকোলের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের দুই ছেলে রাসেল, রানা ও তাদের সহযোগী রেজাউলসহ ৭/৮ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দোকান মেরামত কাজে বাধা দেয়। এ সময় কর্মচারী নয়ন বাধা দিলে তারা উপর হামলা চালায় হামলাকারীরা। এতে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে রক্তাত্ব অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায় নয়ন। পরে স্থানীয়রা নয়নকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনা ব্যবসায়ীরা কুমারখালী থানাকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী রাসেল, রানা ও তাদের সহযোগী রেজাউলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
 
দোকান মালিক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, কুমারখালী পৌরসভার হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে সেরকান্দি মৌজার ১৭৯ আর,এস, ও ১২৬৩ দাগে .০১৩১ একর জমির উপর অবস্থিত আমার সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত করছিলেন নয়ন। এ সময় তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। পরে এ বিষয়ে মামলা করার পর থেকেই হুমকিধামকির শিকার হচ্ছি।
 
তিনি বলেন, আব্দুল মজিদের পরিবার এলাকায় জামায়াতপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত। মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। সেই সাথে আব্দুল মজিদ কুষ্টিয়া কোর্টে পেশকারের চাকুরী করার সুবাধে উল্টো আমার ও ওসি স্যারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ভয় দেখাচ্ছে। জসিম বলেন, আব্দুল মজিদ ভুল তথ্য দিয়ে উল্টো সংবাদ পরিবেশন করেছে যে ওসি স্যার আমার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এটা সমপূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং ব্যবসায়ীরা আতংকে দোকান পাট বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
 
এ ব্যাপারে আব্দুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি আব্দুল খালেক জানান, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখেছিল। বিষয়টি তারা আমাকে জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হামলার ঘটনায় দোকান মালিক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
 

ইত্তেফাক/এএম