বাবাসহ প্রেমিকা আটক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে নিখোঁজের দুইমাস পর মাধবপুর সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র উজ্জ্বল মিয়া (২২)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকালে উপজেলার মেন্দির হাওরে একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ছাত্র লাখাই উপজেলার মুড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় উজ্জলের কথিত প্রেমিকা হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী ধর্মপুর গ্রামের মনজু মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৭) ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রেমিকা ফারজানা আক্তার। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে ফারজানা আক্তার ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় লাখাই থানা চত্বরে সংবাদসম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ।
গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে উজ্জ্বল ও ফারজানার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে ফারজানার বাবা-মা ঢাকায় গেলে ২০ ফেব্রুয়ারি উজ্জ্বল ফারজানার বাসায় যায়। এ সময় উজ্জ্বলের সঙ্গে অপর নারীর সম্পর্কের জের ধরে ঝগড়ার একপর্যায়ে ফারজানা মসলা বাটার শিল দিয়ে উজ্জলের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এসময় মৃতদেহ বস্তায় ভরে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। পরদিন ঢাকায় গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় ফারজানা। তার বাবা ঢাকা থেকে এসে লাশ নিয়ে নিকটবর্তী মেন্দির হাওরে পুঁতে রাখেন। ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উজ্জ্বলের বাবা থানায় একটি জিডি করেন।
তদন্তে পুলিশ ২১ এপ্রিল ফারজানা ও তার বাবা মনজু মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে ফারজানা ও তার পিতা মঞ্জু মিয়া বিষয়টি স্বীকার করেন। মঞ্জু মিয়ার দেখানো মতে সোমবার বিকালে হাওর থেকে উজ্জ্বলের লাশ উদ্ধার করা হয়। উজ্জলের পিতা শাহ আলম তার ছেলের লাশ শনাক্ত করেছেন।