গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক কিশোরীর কঙ্কাল উদ্ধারের প্রায় চারমাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু কঙ্কালটি কার, তা এখনো সনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার গাইবান্ধা সিআইডি (গোয়েন্দা) পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিআইডি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন গত ১২ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের কচুয়া বেলচার গ্রামের ধান ক্ষেতে একটি কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে রাজাহার ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সুকমল সরকার কঙ্কালটি উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ কঙ্কালসহ আলামত উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। কঙ্কালটির হাত ও পা সবুজ রংগের সলোয়ারের ছেড়া কাপড়ের টুকরা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এর পাশে খোপাকরা কালো চুল পড়ে ছিল। তার পাশে ছিল ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত প্রিন্টের কামিজ (জামা) ও ফিতা ছেড়া একটি এসপনস এর স্যান্ডেল। এই ঘটনায় ওইদিন রাতে গ্রাম পুলিশ সুকমল সরকার বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ দীর্ঘ তিনমাস আটদিন তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ফলে জেলা পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের গত ২০ আগস্ট মামলাটি গাইবান্ধা সিআইডি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু কঙ্কালের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে বিপাকে পড়েছে সিআইডি পুলিশ।
শনিবার বিকেলে গাইবান্ধা সিআইডি পুলিশের ওসি সাইদুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মাথার চুল ও পোশাক দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি কোনো নারীর হতে পারে। বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ১৫-২০ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে লাশ ফেলে রেখে যেতে পারে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জের প্রতারক চক্র জিনের বাদশা গুপ্তধনের লোভ দেখিয়ে ওই নারীকে ডেকে এনে ধর্ষণের পর হত্যা করতে পারে। তবে ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে পারলে ঘটনার সব রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এজন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ