অসাধারণ জয়ে ফুরফুরে বাংলাদেশ

ফেস্টিভ্যাল সিটিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলটা দুবাই শহরের একপ্রান্তে। এখানেই বাংলাদেশ দলের আবাস এখন। কাঙ্ক্ষিত জয়ে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ শুরু হয়েছে। গোটা দলই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। গতকাল অনুশীলনে ছিল ছুটি। ক্রিকেটাররা যার যার মতো দুবাই শহর ঘুরতে বেরিয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে বেরিয়েছেন মাহমুদউল্লাহরা।
 
হোটেলের লবিতে পাওয়া গেল ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে। দলের মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুশফিকুর রহিম। ভাব-গম্ভীর মুশফিকের চোখে-মুখে তৃপ্তির আভা। গত কয়েক বছরে ব্যাট হাতে তীরে এসে তরী ডুবানোর দৃশ্যে মূর্ত হয়ে উঠা এই ব্যাটসম্যান যেন এখন নির্ভার। গত শনিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৩৭ রানের জয়ে বড় অবদান তার। ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। আর তাতে দল জেতার কারণেই যেন মুশফিকের চোখে-মুখে বেশ স্বস্তি।
 
তবে মুশফিকের প্রতি প্রথম প্রশ্নই ছিল, বাংলাদেশকে কততম ম্যাচ জেতালেন? ৩১ বছর বয়সী আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানালেন, এই হিসাব জানা নেই তার। ভবিষ্যতে এমন ইনিংস আরো খেলতে চান যেন হিসাব করার মতো অবস্থা না থাকে।
 
গতকাল মুশফিক বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে কোনো হিসেব নেই। কখনো হিসেবও করতে চাই না। সামনে যেন এর চেয়ে বেশি ম্যাচ জেতাতে পারি। যাতে কোনোভাবেই হিসেবে করতে না পারি। চেষ্টা থাকবে ভব্যিষ্যতে দলের জয়ে বেশিরভাগ অবদানই যেন রাখতে পারি।’
 
এই তো গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেন্ট কিটসে মুশফিক ৬৮ রান করলেও বাংলাদেশ হেরেছিল। তার ব্যর্থতায় দগদগে ক্ষত হয়ে টিকে আছে ব্যাঙ্গালুরু, দেরাদুনের ছবি। যদিও সেসব ব্যর্থতা রান তাড়ায়। দুবাইয়ে গত শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসটা অবশ্য খেলেছেন দলকে লড়াইয়ে পুঁজি এনে দেয়ার সময়। একপ্রান্তে আগলে লড়েছেন। এই ইনিংসটাই আগের ব্যর্থতার ক্ষতগুলো যেন প্রলেপ হয়ে কাজ করছে।
 
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটাকেই এগিয়ে রাখছেন মুশফিক। বলেছেন, ১৫০ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলা এই ইনিংসটাই ক্যারিয়ার। মিঠুনের সঙ্গে ১৩১ রানের জুটি গড়েছেন। মাশরাফি-মিরাজদের সঙ্গেও ছোট ছোট দুটি জুটি গড়েছিলেন। শেষ তামিমের সঙ্গে যোগ করেছিলেন মহামূল্য ৩২ রান। 
 
গতকাল ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এটাকে ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংস বলা যায়। অনেকেই বলছে। তবে ভবিষ্যতে এর চেয়ে ভালো ইনিংস হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত যদি বলেন এটাই আমার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং।’
 
কিছুটা চোট নিয়েই খেলেছেন মুশফিক। পাজরের হাড়ে কিছুটা ব্যথা রয়েছে। তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তাও ছড়িয়েছিল। দেশের, দলের প্রতি নিবেদনেই খেলতে নেমে গেছেন তিনি।  এবং তা নিজের দায়িত্ব মনে করেন মুশফিক। বলেছেন, ‘ব্যথা অবশ্যই এখনো আছে। তামিম যেভাবে ব্যাটিংয়ে এসেছে এটা অবিশ্বাস্য। আমার ইনজুরিটা অন্যরকম। কিন্তু ওর হাড়ই ভেঙ্গে গেছে। এক হাতে ব্যাট ধরেছে। নিবেদন সব সময়ই আমাদের দলে প্রতি থাকে। এখন হয়তো ইনজুরি নিয়ে আমাদের দুজনের জন্য ম্যাচটা জেতা হয়েছে। এই কারণে বিষয়টা ফোকাস। কিন্তু আমাদের নিবেদন সব সময়ই থাকে। যে ম্যাচে আমরা হারি সেই ম্যাচেও আমাদের নিবেদন সমান থাকে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই আমাদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় পারি আবার অনেক সময় পারি না। এটাই আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এভাবেই খেলার চেষ্টা করবো।’
 
ব্যাট হাতে দলকে জেতানোর এমন তৃপ্তি, প্রশান্তি বারবার ব্যাটসম্যান মুশফিকের ক্যারিয়ার রাঙিয়ে তুলুক। এমনটাই চাইবে দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি