পাবনার সাঁথিয়ায় পাষণ্ড স্বামী শাপলা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামে। আহত শাপলাকে প্রথমে সাঁথিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
অভিযোগে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ই্উনিয়নের বড় পাইকশা গ্রামের শামসুলের মেয়ে শাপলা খাতুনের বিয়ে হয় একই হাপানিয়া গ্রামের বাছেদ খান ওরফে মুনানের ছেলে শামীমের সঙ্গে। এদের ঘরে তিনটি সন্তানও রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে শাপলা তার স্বামীর নিকট কিস্তির টাকা চাইতেই রেগে গিয়ে চুলায় ভাত রান্না করার গরম পানি ঢেলে দেয় শাপলার গায়ে। এ সময় শাপলা চিৎকার করতে থাকলে পাষণ্ড স্বামী শামীম পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় পরিবারের লোকজন শাপলাকে সাঁথিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।হাসাপাতালে শাপলার অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
শাপলার মা ময়না থাতুন জানান, বিয়ের পর থেকেই শাপলার পাষণ্ড স্বামী শাপলাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। এমনকি তার শ্বশুর-শাশুড়ী মিলেও নির্যাতন করতো। শামীম কোন কাজকর্ম করে না। নেশা করা আর জুয়া খেলা তার প্রধান কাজ। তিনি হাসাপাতালের মধ্যেই শাপলার শ্বশুরকে বলেন, আপনার ৭/৮ বিঘা জমি থাকতেও আমার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় চাল-ডাল নিয়ে এসে মেয়েকে খাওয়ানো হতো কেন ? এতে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি শাপলার শ্বশুর।
এ ব্যাপারে শাপলার শ্বশুর আব্দুল বাছেদ খান মুনান সাংবাদিকদের বলেন, ছেলে যদি এরকম করে কি করবো বলেন। আমি শাপলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানা ওসি তদন্ত আব্দুল মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে আমি ও এসআই গাফ্ফারসহ হাসাপাতালে গিয়েছিলাম। মেয়ের বাবাকে অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
ইত্তেফাক/নূহু