চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কমলমুন্সিরহাট এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকে হামলার জের ধরে সোমবার দুই গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে পারিগ্রাম মল্লপাড়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে খরনা ইউনিয়নের উত্তর খরনা ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের লোকজন সোমবার সকাল ১০টা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, হকিস্টিক, রামদা, লাঠিসোটা নিয়ে চক্রশালা রেল স্টেশনের দুইপাশে অবস্থান নেয়।
রেললাইনের পূর্বপার্শ্বে মল্লপাড়া গ্রামের লোকজন একইভাবে অবস্থান নিলে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্ঠি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ ঘটনায় কমলমুন্সিরহাটে প্রায় শতাধিক দোকানপাঠ দুই ঘন্টা ধরে বন্ধ ছিল। উত্তেজনাকারীদের হামলায় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন ৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ কিংবা হতাহত হয়নি।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে ধাওয়া করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এ সময় পুলিশ তিনটি কিরিচ ৮টি হকিস্টিকসহ বিপুল পরিমান লাঠিসোটা উদ্ধার করে। তবে এখনো পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারে নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে খরনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাঈমুন চৌধুরী সিএনজি টেক্সিযোগে পটিয়া পৌর সদরে যাওয়ার পথে কমলমুন্সিরহাট এলাকায় শফি ও মোনাফ নামের দুই যুবক তাকে আক্রমণ করে। রবিবার দুপুরে পারিগ্রাম এলাকার লোকজন ছাত্রলীগ কর্মী ফারুককে পটিয়া বাস স্টেশন এলাকায় মারধর করে সিএনজিতে তুলে এনে চক্রশালা রেলষ্টেশনে মারপিট করে রক্তাক্ত করে। এ দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়।
বিষয়টি পার্শ্ববর্তী কচুয়াই ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ইনজামুল হক জসিম অবগত হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিশ-মীমাংসার চেষ্ঠা চালায়। সোমবার সকাল ১১টায় চেয়ারম্যান ইনজামুল হক জসিম চক্রশালা রেলস্টেশন এলাকায় উভয় পক্ষের ৫জন করে বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আলোচনা করতে থাকে। এ সময় মল্লপাড়া গ্রামের লোকজন চক্রশালা রেলস্টেশনের কাছে এসে গুলিবর্ষণে ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এতে ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের কয়েক শত লোক ও মল্লপাড়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশসহ দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান, পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম মজুমদার, কচুয়াই ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ইনজামুল হক জসিম, খরনা ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দিন প্রমুখ।
খরনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাঈমুন চৌধুরী জানান, ‘পারিগ্রাম মল্লপাড়া এলাকার কিছু চিহ্নিত জামায়াত- শিবির কর্মী দীর্ঘদিন ধরে আমাকে টার্গেট করে হামলার চেষ্ঠা চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার আমাকে পথরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্ঠাও করেছে। আমি থানাকে লিখিত অভিযোগ করেছি। তারই ধারবাহিকতায় জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দিনদুপুরে গুলি বর্ষণ করেছে।’
পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ‘গুলিবর্ষনের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ধরে রাখার জন্য উভয় এলাকার চেয়ারম্যানদের মধ্যস্থতার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে পরিস্থিত স্বাভাবিক রয়েছে।’
ইত্তেফাক/নূহু