সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়া বন্ধ করা উচিত ছিল সু চির

‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্মমতা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চালিয়েছে, তা ঢাকতে গিয়ে নোবেল বিজয়ী সু চি নিজেকে পরিণত করেছেন ‘লজ্জা নিবারণের ডুমুরপত্রে’। রাখাইনে সহিংসতা থামাতে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমারের নেত্রী সু চি এড়াতে পারেন না।’ এইরকম কঠোর ভাষায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি।
 
অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপনের আগে যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
 
সিডোটি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন স্থাপনায় একযোগে হামলার পর গতবছর ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওই দমন অভিযান শুরু হয়। সেই সঙ্গে শুরু হয় এশিয়ার এ অঞ্চলে সামপ্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট।
 
তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আগস্টের শেষে তাদের ২০ পৃষ্ঠার যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে নৃশংস সেই দমন অভিযানের ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। তবে, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি ৪০০ পৃষ্ঠার হবে বলে জানা গেছে।
 
সিডোটি বলেন, সু চি প্রথম যে কাজটি করতে পারতেন তাহলো- রাখাইনে গণহারে ধর্ষণের যে বিপুল অভিযোগ এসেছে সেসব ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়া বন্ধ করা।
 
দ্য টেলিগ্রাফে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সিডোটি আরো বলেছেন, রাখাইনের ঘটনার বিচারের জন্য আলাদাভাবে বিশেষায়িত একটি ফৌজদারি আদালত গঠন করা যেতে পারে। তাছাড়া যে মাত্রার অপরাধ সেখানে হয়েছে, তাতে যে কোনো দেশ তার সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার কাজে লাগাতে পারে।
 
ইত্তেফাক/অারকেজি