চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজ গেইটে রাস্তার উপর অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা চট্টগ্রাম কলেজ সড়কে যানবাহন ও জন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় আতংক। বিক্ষোভকারীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়।
বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ছাত্রলীগের কর্মীরা জানান, বিভিন্ন সময়ে যারা কলেজে শিবিরবিরোধী অন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। শিবির-ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এমন ছাত্রদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।
অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, যোগ্য ও নিবেদিতদেরকেই কমিটিতে নেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কলেজের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়।
চকবাজার থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে তাদের বুঝিয়ে-সুজিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দেয়া হলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে মহানগর ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে আসে ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এরপর এই দুই কলেজে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষেও জড়ায় ছাত্রলীগের বিবদমান নেতাকর্মীরা।
ইত্তেফাক/কেকে