সদরঘাটে অবস্থিত ঢাকা নদীবন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেশের ১৬ জেলার লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। সরকারি ছুটি বা উত্সবে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অনস্বীকার্য অবদান রাখা এ নদীবন্দর নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, যাত্রী হয়রানি ও যানজটমুক্ত এবং যাত্রীবান্ধব আধুনিক ঢাকা নদীবন্দর গড়ে তুলতে চায় কর্তৃপক্ষ। আর এজন্য বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি ২০১৮ এর জুলাই হতে ২০২২ এর জুন পর্যন্ত চলবে। যা বাস্তবায়নে থাকবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চারপাশে ঘেরা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকা নদীবন্দর টার্মিনালে এক যৌথসভায় এ পরিকল্পনার লিখিত আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সভার আলোচনার বিষয়বস্তু সূত্রে জানা যায়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর উচ্ছেদ পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে ওয়াইজঘাট ও বাদামতলী এলাকায় প্রস্তাবিত পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ, গুলিস্তান থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণসহ ফ্লাইওভারের একটি লুপ বাবুবাজার ব্রিজ ও অপর একটি লুপ পোস্তগোলা ব্রিজের সঙ্গে সংযুক্ত করা, শ্যামবাজার ও বাদামতলী এলাকায় সবজি ও ফলের আড়ত অন্যত্র স্থানান্তর করা, সিটি করপোরেশনের টিনশেড মার্কেটটি অপসারণ করে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকে সদরঘাট অভিমুখী রাস্তাটি দুই লেন করা, এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, ব্যবসায়িক বর্জ্য, যাত্রী ও লঞ্চের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করা, ফেরিঘাটে খেয়া পারাপারের সময় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ও ট্রলার ডুবির ঘটনা বন্ধ করতে টার্মিনাল ভবন সংলগ্ন তিনটি খেয়াঘাট পটুয়াখালী ঘাটের (ওয়াইজ ঘাট) পশ্চিম পাশে অতি জরুরিভিত্তিতে স্থানান্তর করাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়, বুড়িগঙ্গাকে যমুনার সঙ্গে সংযোগের জন্য গৃহীত প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরে গড়ে ওঠা সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ইটিপি স্থাপন ও ব্যবহারে বাধ্য করা ও বুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের লক্ষ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে অদূর ভবিষ্যতে এক বা একাধিক টানেল নির্মাণ করা।
গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত যৌথসভায় ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা নদীবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরে কুলি হয়রানি, সংযোগ রাস্তাগুলো দখল করে ফল-সবজি ব্যবসা, ভাসমান দোকান বসিয়ে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টিসহ নানা ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটি-এর উপ-জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, রাজধানী ঢাকাকে নদীবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ আছে। ইতিমধ্যে নদীর উভয় পাশে ২২০ কিলোমিটার প্রকল্পের ২০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পটি শেষ হলে আরো কাজ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটি-এর যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আলম (সদস্য-অর্থ) বলেন, আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবগুলো প্রজেক্টের টেন্ডার আহ্বান করবো । আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। গত ২৭ জানুয়ারি যৌথ সভায় আমরা এই প্রজেক্টের আওতায় আরো নতুন কিছু বিষয় যোগ করার প্রস্তাব করেছি। এই প্রস্তাবগুলো গৃহীত হলে কিছুটা সময় বাড়বে। আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আধুনিক ঢাকা নদীবন্দর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।