দেশের শীর্ষ ব্যান্ডদল ফিডব্যাক পথচলার ৪ দশক পূরণ করলো। এদেশের গীতিকবিতা সমৃদ্ধ গানে এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এই ব্যান্ডটি। কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে একইরকম ভালোবাসায় থাকাটা বিশাল অর্জন। আগামী ৩০ এপ্রিল তাদের চার দশকপূর্তি উত্সব। এ উপলক্ষে ব্যান্ডদলটির দলনেতা দেশবরেণ্য সঙ্গীতব্যক্তিত্ব ফুয়াদ নাসের বাবু কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নুরুল করিম
৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিডব্যাক ৩ প্রজন্মকে মাতিয়ে রেখেছে। কোনো একটা অভিজ্ঞতার কথা যদি শুনতে চাই...
এই ৪০ বছরে আমাদের প্রচুর অভিজ্ঞতা। বলতে শুরু করলে শেষ হবে না। আমাদের কনসার্টগুলোতে মাঝবয়সী অনেক মানুষই আসেন। অনেকেই বলেন, সেই ছোটবেলা থেকে আপনাদের গান শুনে বড় হয়েছি। আমি হেসে উত্তর দিই, আপনারা বড় হচ্ছেন, আমরা বুড়ো হচ্ছি। এই সময়টাতে আমি অনেক বন্ধুকে পেয়েছি। আর যদি সঙ্গীতের কথা বলতে হয়, আমরা অনেক সঙ্কট, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছি।
ব্যান্ডে ভাঙন সবসময়, সব জায়গাতেই আছে। ১৯৯৬ সালে ফিডব্যাক ছেড়ে যান মাকসুদুল হক। কিন্তু এক্ষেত্রে বিরল যে, আপনাদের সাথে সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি।
এটা কিভাবে সম্ভব হলো?
ভালো বলেছেন। মাকসুদ ব্যান্ড ছেড়ে চলে গেলেও আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে বন্ধুত্বটা ঠিক রেখেছি। আসলে সহকর্মী থেকে বন্ধুত্বটা বেশি ছিল আমাদের। গান করেছি, অ্যালবাম বের করেছি প্যাশনের জায়গা থেকে। কখনো সেরকমভাবে কমার্শিয়াল চিন্তা করিনি কেউই। যেকারণে আমাদের মধ্যে কখনো বিভেদ হয়নি। আমরা এখনো বন্ধু।
মাকসুদ ভাইয়ের কণ্ঠে আপনার কম্পোজিশনে অগণিত কালজয়ী গান আছে। নতুনভাবে আরো কিছু গান কী পেতে পারে দর্শক-শ্রোতারা। আবারো আপনাদের এক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি-না?
সেটা এখন বলতে পারছি না। দর্শক-শ্রোতারা চাইলে নতুন গান হতেই পারে। আমরা একসঙ্গে কাজ করবো কি-না সেটা জানা যাবে ৩০ এপ্রিল। এখনই কিছু বলতে চাই না।
৩০ এপ্রিলের আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই—
আয়োজনটিকে আমরা চারভাগে সাজিয়েছি। প্রথমত, ফিডব্যাকের প্রথম লাইনআপ মঞ্চে এসে সত্তরের দশকের গানগুলো গাইবে। দ্বিতীয়ত, কয়েকটি অতিথি ব্যান্ড আমাদের ব্যান্ডের গানগুলো গাইবে। এখন পর্যন্ত মাইলস, দলছুট, ওয়ারফেজ, আর্টসেল নিশ্চিত করেছে। তৃতীয় পর্যায়ে ফিডব্যাকের বর্তমান লাইনআপ মঞ্চে আসবে, সাম্প্রতিক সময়ের গানগুলো পরিবেশন করবে। শেষ ধাপে আমি, মাকসুদ, লাবু রহমানসহ আরো বেশ কয়েকজন গান পরিবেশন করবো।
ফিডব্যাকের কোন অ্যালবামটি আপনার সেরা তালিকায় রাখবেন?
অবশ্যই ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’। সেসময়ের গানগুলো তো মানুষকে এখনো শুনতে দেখি।
দলনেতার মৃত্যু মানেই কী ব্যান্ডের মৃত্যু? এলআরবির প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক নিয়ে আপনি কী বলতে চান? ফিডব্যাকেরও কী ভবিষ্যতে এমন সঙ্কটে পড়ার সম্ভাবনা আছে?
বাচ্চু ভাই কাছের একজন মানুষ ছিলেন। উনি চলে যাওয়ার পর এলআরবি শেষ হয়ে যাবে, ব্যান্ডটা শেষ হয়ে যাবে এটা কোনোভাবেই মানতে পারি না। আমার বিশ্বাস, সবাই এখন একটা ভুলের মধ্যে আছে, সে ভুল ভাঙবে। যার কণ্ঠেই হোক, আমরা আবারো মঞ্চে এলআরবির গান শুনতে চাই। আর আমাদের এমন সম্ভাবনা নেই।