গ্রিসের লেসবস দ্বীপ থেকে এই মাসে প্রায় দুই হাজার শরণার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ শরণার্থীদের চাপ কমাতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এদিকে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি লেসবস ক্যাম্পে শরণার্থী থাকায় দেশটির ডানপন্থী সমর্থকরা প্রতিনিয়ত এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সমালোচনা করছে।
গ্রিস সরকারের মুখপাত্র ডিমিট্রিস তাজানাকোপোলোস মঙ্গলবার বলেছেন, মরিয়া ক্যাম্প থেকে সরিয়ে আনা শরণার্থীদের মূল ভূ-খণ্ডে পাঠানো হবে। এছাড়া আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে তাদের দাবিগুলো পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। মরিয়া ক্যাম্প তিন হাজার একশ মানুষ থাকার জন্য নির্মিত হলেও সেখানে ৯ হাজার শরণার্থী আছে। তিনি আরও বলেন, মরিয়া ক্যাম্পের পরিস্থিতি সত্যিই খুব কঠিন।
আঞ্চলিক গভর্নর ক্রিস্টিনা কালোগিরো শরণার্থী ক্যাম্পের অবস্থার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, ক্যাম্পে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই খারাপ। যার ফলে সব ময়লা-আবর্জনা ক্যাম্পের মূল ফটক দিয়ে বের হচ্ছে। তিনি অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পটি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার (এমএসএফ) নামে এক সংস্থা বলেছে, মরিয়া ক্যাম্পে থাকা শিশুদের যৌন নির্যাতনে প্রচেষ্টা ও আত্মহত্যা করার প্রবণতা ছাড়া বিভিন্ন ক্ষতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি গ্রিসের মূল ভূখণ্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, চলতি গ্রীষ্মে মরিয়া ক্যাম্প থেকে তিন হাজার শরণার্থীকে ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও সাতশ শরণার্থীকে চলতি সপ্তাহে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই হাজার শরণার্থীকে এ মাসের শেষদিকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গ্রিস সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন। -আল জাজিরা
ইত্তেফাক/ জেআর