পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন কচুয়াকাঠী খালের ওপর আয়রন ব্রিজটির একাংশ ভেঙ্গে খালে পড়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিকট হঠাৎ শব্দে ব্রিজের আংশিক দেবে যায়। পরে প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের স্রোতে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ব্রিজটি মাঝখানে ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়ছেন ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ।
এর আগে ঘটনার খবর পেয়ে কাউখালী থানার পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়রা লাল পতাকা গেড়ে এটির উপর দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। ব্রিজটির যে কোন মুহূর্তে সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে এ ব্রিজটি। এটি সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সিমেন্টের ঢালাই দেয়া ব্রিজের নিচের ক্রস অ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরে ব্রিজটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০ বছর আগে কচুয়াকাঠী খালের ওপর এ আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে। ওই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজী হারুন আর-রশীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন। এ ছাড়া ব্রিজটি দিয়ে কাউখালী খাদ্য গোডাউনের মালামাল পরিবহন করা হয়।
IMG0
স্থানীয় ব্যবসায়ী অরবিন্দু সিকদার বলেন, ‘ব্রিজটি ফাটল ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় লাল পতাকা গেড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেটে যাতায়াত করছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে।
কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিলটন জানান, ‘ব্রিজটি এলজিইডির আওতাধীন কচুয়াকাঠী খালের উপর নির্মিত পুরাতন একটি আইরন ব্রিজ। প্রথমে এটির মাঝ বরাবর দেবে যায়, পরে ভেঙ্গে খালে পড়ে যাওয়ায় সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। এটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কাউখালী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত সাহা দুপুরেও ব্রিজটি পরিদর্শন করে বলেন, মানুষের চলাচলের জন্য ব্রিজটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ