আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে দোষারোপের খেলা

শ্রীলঙ্কায় হামলার আগাম বার্তা পাওয়ার পরও নিরাপত্তা ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক মতবিরোধ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে প্রশাসন তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। আর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, আইএসের দাবিকে গুরুত্ব দিলেও অন্য কারো সংযোগ আছে বলে আমাদের বিশ্বাস। খবর বিবিসি’র

সরকারে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

হামলার আগেই হামলাকারীদের থামানো যেতো কি না তা নিয়ে সরকারের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। সরকার আগেই ইসলামপন্থী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের (এনটিজে) সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছিলো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে। তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার কয়েক ঘন্টা আগেও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, যে কোনো সময় হামলা হতে পারে। কয়েকটি মার্কিন মিডিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কা সরকারকে সতর্ক করেছিল। গতকাল প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার আগাম সতর্কবার্তা জানানো হয়নি। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ঢেলে সাজাবেন তিনি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাহিনী ও সংস্থার প্রধানদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী রনিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মূল পরিকল্পনাকারীদের চিন্নিত করার বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। আইএসের দাবিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে আমাদের বিশ্বাস, এর সঙ্গে অন্য কারো সংযোগ আছে।

মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী রনিলকে সতর্কবার্তা জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সাথে দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা বিষয়ক সভাগুলোতেও যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী। টুইটার বার্তায় রনিল বলেছেন, অবর্ণনীয় ট্রাজেডির পরও আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। তার টুইট বার্তায় সরকারে যে বিরোধ আছে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে।

সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে

সোমবার মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থার পাশাপাশি এক ঘোষণায় দেশটির পুলিশকে আদালতের আদেশ ছাড়াই সন্দেহভাজনদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ধরণের ক্ষমতা সর্বশেষ গৃহযুদ্ধের সময় প্রয়োগ করা হয়েছিল। সোমবার রাতে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল ও রাতভর সশস্ত্র বাহিনী রাস্তায় টহলে ছিল। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইন্সটগ্রামসহ সোশ্যাল মিডিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।