তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি আসনে ভোটগ্রহণ, পশ্চিমবঙ্গে নিহত ১

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে গতকাল মঙ্গলবার ১১৬ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এসব আসনে ৬৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গরমে অসুস্থ হয়ে কেরালা ও আসামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দুই ধাপের মতো এবারো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।

তিন ধাপ মিলিয়ে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০২ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপেই সবচেয়ে বেশি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল ১৫ রাজ্যের ১১৬ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১৬১২ জন। ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ কোটি ভারতীয়। গতকাল  গুজরাট   ও কেরালার সব কয়টি আসনে ভোট হয়। এ ছাড়া, উত্তর প্রদেশের ১০টি ও পশ্চিমবঙ্গের ৫টি আসনেও ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই ধাপের নির্বাচনে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী দলের মুয়ায়ম সিং যাদব, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খড়গে, জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতুির মতো হেভিওয়েট নেতাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। যদিও রাহুল গান্ধী আরো একটি আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে এই রাজ্যেই। মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। জাতীয় কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুল কালাম টিয়ারুল শেখ নামে একজন নিহত হন। তিনি জাতীয় কংগ্রেস সমর্থক বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটাই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। মুর্শিদাবাদের হুরশি এবং লোচনপুরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩ জন। পশ্চিমবঙ্গেরই বুনিয়াদপুরে রিজার্ভে থাকা ভোটকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ভোট চলাকালে লাইনে থাকা অবস্থায় গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। কেরালায় ভোট চলাকালে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। অন্য দিকে, আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় এক ভোটার মারা গেছেন। এ ছাড়া, গোয়াসহ বিভিন্ন রাজ্যে ইভিএমে ত্রুটির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীদল কংগ্রেস।

এদিকে নির্বাচনের মাঝামাঝিতে এসে প্রচারণার উত্তাপও বেড়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে আসানসোলের জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিতে কংগ্রেসকেও ছাড়িয়ে গেছে তৃণমূল। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মালদা এবং বালুরঘাটে ভোটারদের কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, এটা করার অধিকার তাদের নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করেছি।