বিদেশ যাত্রীদের মেডিক্যাল সনদ প্রদান বাবদ অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে খুলনার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার দুপুরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরে খুলনা সদর হাসপাতালেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া। সঙ্গে ছিলেন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন, উপ-সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল ও উপ-সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ।
দুদক সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, বিদেশ যাত্রীদের মেডিক্যাল সনদ প্রদান বাবদ খুলনার সিভিল সার্জন অফিসে জনপ্রতি ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে- এ মর্মে দুদক সদর দপ্তরে অভিযোগ ছিল। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর দপ্তরের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার সত্যতা না পাওয়া গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আতিয়ার রহমান শেখ জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। অভিযানের মুখে আর টাকা নেওয়া হবে না- বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আতিয়ার রহমান শেখ জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ২শ’ টাকা সিভিল সার্জন বা স্বাক্ষরদাতা এবং বাকি ৫০ টাকা অফিস স্টাফরা নেয় বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। রবিবার সিভিল সার্জন ছুটিতে থাকায় এ টাকা তিনি নিজেই গ্রহণ করেন। কিন্তু এ টাকা নেওয়ার জন্য রশিদ বা বৈধতা তিনি দেখাতে পারেননি তিনি।
দুদক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মেডিক্যাল সনদ প্রত্যাশীদের বিনামূল্যে সনদ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেডিক্যাল সনদ বাবদ কোন অর্থ গ্রহণ করা হয় না, অথবা নিলেও কত টাকা, কিসের বিনিময়ে- সেটি অফিসের সামনে লিখে রাখা এবং রশিদ ছাড়া কোন অর্থ লেনদেন না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্য অফিসেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে খুলনা সদর হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে এক্স-রে মেশিন থাকতেও বাইরে থেকে এক্স-রে করে আনছেন রোগীরা।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করে আনতে বলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ