ক্ষতিপূরণের দাবিতে এখনো সংগ্রাম ক্ষতিগ্রস্তদের

১১ দফা দাবিতে রানা প্লাজার আহত শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রানা প্লাজার সামনে তারা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে— রানা প্লাজার সকল ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, আজীবন চিকিত্সা, আহত ও নিহত সব শ্রমিকের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দিতে হবে। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

ভবন ধসের ছয় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো অনেক নিহতের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুবিধা। ফলে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সেবা নিতে না পারায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি অনেক আহত শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আজও তাদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

এদিকে, ছয় বছর উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবেন আজ। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির পক্ষ থেকে রানা প্লাজা ধসে দোষীদের শাস্তির দাবিতে কাফনের কাপড় পরে মিছিল ও দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর আজ। ২০১৩ সালের এদিনে সাভার বাসস্ট্যান্ডে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার ৯তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছিল। ভবন ধসের ঘটনায় এক হাজার ১৩৮ জন মারা যায়। আহত হয় দুই সহস্রাধিক শ্রমিক। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।