প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে করা র্যালিতে থাকায় শতাধিক শিক্ষার্থী রক্ষা পেয়েছে ভবন ধস থেকে। এমনটি দাবি করেছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই ভবনটিতেই চালাতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে এলেও হটাৎ রবিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসা ভবনের একটি অংশের পলেস্তারা ও বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় উম্মে সালমা, রাবেয়া, জাকিয়াসহ ৫শিক্ষাথী আহত হয়েছে। ওই সময় নতুন একটি একাডেমিক ভবন অনুমোদনের খরব শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে মাদ্রাসার মাঠের আনন্দর্যালি চলছিল। ওই র্যালি থাকা শিক্ষার্থীরা রক্ষা পায় দুর্ঘটনার হাত থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, ১৯৬৪ সালে নির্মিত রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসার পুরাতন ভবনটি অনেক আগে থেকে ঝুকিপূর্ণ। ২০০৪ সালে মাদ্রাসা ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার ও রাজনীতিবিদরা নতুন ভবন নির্মানের জন্য দফায় দফায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুরাতন ভবনেই দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হয়েছেন।
IMG0
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদের সহযোগিতায় সরকার একটি ৬ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন অনুমোদন দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল ১১টায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ এলাকার সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাদ্রাসার সামনে রামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে একটি আনন্দর্যালী বের করে। ঠিক এ সময় অষ্টম শ্রেণির ক্লাশরুমের ছাদ ও বারান্দার একটি অংশ নিচে ধসে পড়ে। হটাৎ ভবন ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ভবন ত্যাগ করতে গিয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আকবর হোসেন জানান, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেছি। পুরাতন ভবন সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এইচ এম মোশতাক আহম্মেদ জানান, র্যালি শেষ করে ফেরার সময় বিকট শব্দে মাদ্রাসার একটি অংশের পলেস্তারা ও ছাদ মাটিতে খসে পড়ে। গভর্নিং বডির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত ভবনটি খালি করার ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যেন দ্রুত মাদ্রাসা ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন ভবন নির্মান করা হয়। না হলে কয়েকদিন পর জেডিসি পরীক্ষাসহ পড়ালেখা মারাত্মক ব্যাহত হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব লায়ন এম এ আওয়াল জানান, সরকার আমার নির্বাচনী এলাকায় ৪ কোটি টাকা করে ১২০/৯০ ফুটের ৬টি ৬তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন অনুমোদন দিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুবিধার্থে দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দেওয়া আছে।
ইত্তেফাক/নূহু