গার্মেন্টসে প্রকৃত মজুরি কমেছে ২৬ শতাংশ :টিআইবি

গত ডিসেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি ঘোষণার পর আন্দোলনের মুখে ফের ওই মজুরি কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি বলছে, শ্রমিকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকে হিসাবে এনে তার ওপর ভিত্তি করে মজুরি নির্ধারণ না করায় প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকের মূল মজুরি বাড়েনি। শুভঙ্করের ফাঁকি হওয়ায় উল্টো কমে গেছে গড়ে ২৬ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে গার্মেন্টস খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

এ সময় ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর গত ছয় বছরে কর ও ভ্যাট কমানো, প্রণোদনাসহ মালিকপক্ষকে বেশকিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে তা দিতে হবে। কিন্তু এর সঙ্গে সমানতালে শ্রমিকের নিরাপত্তাসহ সুযোগ-সুবিধা একই হারে বাড়েনি। গত বছর শ্রমিকের মজুরি বাড়ানো হলেও ইনক্রিমেন্টের ওপর মজুরি না বাড়ায় তা প্রকৃত অর্থে কমে গেছে। বরং মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিকদের নামে মামলা হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ১২ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়।

গত বছর ব্যাপী ৮০টি কারখানা’র সার্বিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ওই জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে কারখানা মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতাও নেওয়া হয়।

টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে জিডিপি পার ক্যাপিটা (ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতা হিসাবে) অন্য দেশগুলোর বিবেচনায় বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি হওয়া উচিত ২০২ মার্কিন ডলার বা ১৭ হাজার টাকা। কিন্তু এটি রয়েছে ১০১ ডলারে।

এ সময় টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এ খাতের শ্রমিকের নিরাপত্তা উন্নয়নে অনেক অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও অধিকারের জন্য তা এখনো অপ্রতুল।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রানা প্লাজায় দায়ীদের এখনো বিচারের আওতায় আনা যায়নি। তিনি বলেন, রানা প্লাজার মত অনিয়ম করে এখনো অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে।