ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ঝিমিয়ে পড়া উগ্রবাদীদের সজাগ করার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে এরা কিছু করতে পারবে না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ‘মিট উইথ মনিরুল ইসলাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের। উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক দীপু সারওয়ার, ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, ডিসি আব্দুল মান্নানসহ (সিটিটিসি) ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ ও সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজান হামলার পর বিভিন্ন দেশ ভেবেছে আমরা জঙ্গিবাদ ঠেকাতে পারবো না। কিন্তু সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, কিন্তু নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তবে এই মতবাদের অনেককেই ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, আবার অনেকে নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, এক দেশের ঘটনায় অন্য দেশের সন্ত্রাসীরা সজাগ হতে পারে। কিন্তু আমরাও সতর্ক। হলি আর্টিজান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ার একটি গোষ্ঠী উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে প্রচারণা চালিয়েছিল। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডে হামলার পর কিছু গোষ্ঠী তাদের নিজেদের চ্যানেলগুলোতে খ্রিষ্টান বা ইহুদিবিরোধী প্রচারণা চালায়। শ্রীলঙ্কার হামলার ঘটনাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উগ্রবাদীদের সজাগ করতে পারে। বাংলাদেশে কেউ কেউ মনে করতে পারে, আমরা কিছু করব। কিন্তু কারো পক্ষে এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দেরি হলে তারা সামাজিক নানা অপরাধসহ উগ্রবাদে জড়াতে পারে বলে মনে করেন সিটিটিসি বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে গোয়েন্দারা কড়া নজরদারি করছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি আইএস-এর একটি ভিডিওতে বাংলাদেশে খলিফা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এটা আইএস-এর নিজস্ব দাবি। হয়তো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ তাদের সঙ্গে থাকতে পারে, তাকেই খলিফা বলে দাবি করছে তারা।
কারাগারে জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে কারাগারে জঙ্গিরা রেডিক্যালাইজড হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ মামলার দীর্ঘসূত্রতার ফলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা। তাই তাদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।