শনিবার অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি ও গ্রাজুয়েটদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যেই সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বের তুলনায় এবারের সমাবর্তন অধিক জাঁকযমক হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দুটি আবসিক হলের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য আব্দুস সোবহান বলেন, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য মোট ৬ হাজার ১৪ জন গ্রাজুয়েট নিবন্ধন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্রাজুয়েটদের স্ব-স্ব বিভাগ থেকে গাউন সংগ্রহ করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী গ্রাজুয়েটদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে গাউন সংগ্রহ করতে হবে। সমাবর্তনের দিন সন্ধ্যার পর ১০টি বুথ থেকে গ্রাজুয়েটরা রাতের খাবার সংগ্রহ করবেন।
আব্দুস সোবহান আরও বলেন, সমাবর্তন বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মো. সিরাজুদ্দীন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন মঞ্চে ওঠার আগে দশতলা বিশিষ্ট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান (ছাত্র হল) ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা (ছাত্রী হল) নামে দুটি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাবর্তন উপলক্ষ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যগণসহ স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা। সমাবর্তন শুরুর আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত আবাসিক হলগুলোতে কেউ আসা-যাওয়া করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলোতেও যাতায়াতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
এছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সবার জন্য উন্মাক্ত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে আরএমপি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শুধু গ্রাজুয়েটরা এবং তাদের সাথে থাকা অতিথিরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যপারে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে সুযোগ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার প্রমুখ।
ইত্তেফাক/বিএএফ