গফরগাঁওয়ের লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে পাঠদান

দরজা-জানালা নেই, ঘরের কাঠের পাল্লাগুলো ভেঙে যাচ্ছে, বাঁশের ঠ্যাস দিয়ে, তারের টানা দিয়ে টিনের ঘরটাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাথার ওপর ছোট-বড় ছিদ্রযুক্ত টিনের চালা। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ভিজে যায় খাতাপত্র। এমন শ্রেণিকক্ষে চলছে গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এক যুগের বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত এই জীর্ণ ঘরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন বেহাল দশার দেখা মেলে।
 
জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ’। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৯টি পদে শিক্ষক রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১০০ ফুট লম্বা একটি টিনের ঘরে। এক যুগেরও বেশি আগে এই ঘর পরিত্যক্ত হয়েছে। এই পরিত্যক্ত টিনের ঘরে চারটি শ্রেণিকক্ষ বানিয়ে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে নবম এই চারটি শ্রেণির ক্লাস চলে। পাশে ১৯৯৬ সালে নির্মিত ছোট একটি হাফ বিল্ডিং ঘর আছে। এই ঘরটিও পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ঘরটি সংস্কার করে ঘরটিতে দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ বানানো হয়েছে।
 
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তানভীর, মোজাহিদ, ইমরান বলে, একটু জোরে বাতাস হলেই আতঙ্কে থাকি। এই বুঝি প্রাচীন জরাজীর্ণ টিনের ঘরটা ভেঙে মাথায় পড়ল।
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘরে ক্লাস নেওয়া হয়। যেদিন ঝড়-বৃষ্টি বেশি হয় সেদিন বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়। এই সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার আগ্রহ ধরে রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন হচ্ছে।
 
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, ১৯৬৭ সালে নির্মিত, এক যুগ আগে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে এখনো পাঠদান চলছে, এটি দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যানবেইস, শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো আছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু