কক্সবাজারে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী ও পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ছয়জন। পুলিশের দাবি তারা মদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত।
 
রবিবার ভোরে জেলার মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলায় দুইজন, নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারিতে তিনজন এবং কক্সবাজারে একজন মারা যান। এছাড়াও রবিবার টেকনাফে একটি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। 
 
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার:
রবিবার নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার ভোরে বাইশারীর সাম্রাঝিড়ি এলাকার ৩নং রাবার বাগান বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি একনলা বন্দুক ও একটি শটগান উদ্ধার করা হয়। 
 
নিহতরা হলেন- আনোয়ার প্রকাশ আনাইয়্যা,  মো. হামিদ ও মো. পারভেজ বাপ্পি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,  রাবার বাগান বাড়িতে গোলাগুলির শব্দ শুনে বাগান এলাকার শ্রমিকরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে তিন ডাকাতের লাশ দেখতে পায়। পরে তারা পুলিকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে এই গোলাগুলি সংগঠিত হয়েছে বলে জানান তারা।
 
এ বিষয়ে বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম জানান, সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ৩নং রাবার বাগান বাড়িতে ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরে গুলির শব্দ শুনে শ্রমিকরা গিয়ে তিন ডাকাতের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতের লাশ উদ্ধার করে। 
 
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর শেখ বলেন, ডাকাতদের নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
 
টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত: 
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে রবিবার ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইমরান প্রকাশ ওরফে পুতিয়া মিস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ইমরান উপজেলার নীলা পশ্চিম শিকদার পাড়ার আজিজুল হকের ছেলে। পুলিশের দাবি,  নিহত ইমরান একজন মাদক ব্যবসায়ী। 
 
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিয়ানমারে থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান এনে হ্নীলার দর্গারপাড়া এলাকায় মজুত করে রাখা হয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমরান প্রকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। 
 
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৩টি বিদেশি অস্ত্র ও ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।
 
মহেশখালীতে নিহত ১:
এদিকে একই দিন মহেশখালীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোহাম্মদ করিম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে উপজেলার ছোট মহেশখালীর সোনারামের ঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত মোহাম্মদ করিম ওই এলাকার ইউছুফের ছেলে। আহতরা হলেন-মহেশখালী থানার এসআই দীপক, এএসআই সনজিব, কনস্টেবল আবতাফ, উদ্দীন ও ইব্রাহীম। 
 
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মোহাম্মদ করিম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সড়কে ডাকাতি করে আসছিল। শনিবার সড়কে ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা সোনারামের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে, এমন খবরে ভোরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে মোহাম্মদ করিমের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি জানান, এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ৮টি বন্দুক, দুই হাজার ইয়াবা ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
 
কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী মৃতদেহ উদ্ধার: 
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর অপর ঘটনায় কক্সবাজারের পাহাড়ে টেকনাফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার শামসুল আলম মার্কিনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহসহ অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পোস্ট মর্টেম শেষে পরিবার লাশগ্রহণ করে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করে।
 
জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল কলাতলীস্থ কাটা পাহাড়ে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ, একটি দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করেন। তবে ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করে। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ