বাসস্ট্যান্ডে পরিণত শরণখোলার আঞ্চলিক মহাসড়ক, দুর্ভোগে মানুষ

স্থায়ীভাবে কোন বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় বাগেরহাটের শরণখোলায় আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজৈর এলাকায় রাস্তার উপর বাসগুলো দাড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠা নামা করছে। এ কারণে সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্নসহ ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। যাত্রী ছাউনির অভাবে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।  
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাধারণ মানুষের অভিযোগে জানা যায়, ৮০’র দশকে মোরেলগঞ্জ থেকে শরণখোলা পর্যন্ত প্রথমে লোকাল বাস চলাচল শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে এখন জেলা সদর বাগেরহাট, খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোলসহ বিভিন্ন রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে। কিন্তু শরণখোলায় স্থায়ীভাবে কোন বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়নি। যাত্রীবাহী বাসগুলো উপজেলার রাজৈর এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর দাড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠা নামার কাজ করে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিবহনগুলো  যাত্রী নামিয়ে রাস্তার উপর দাড়িয়ে থাকে। ফলে রাস্তার এক পাশ দিয়ে অন্যান্য যানবাহন এবং পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে মানুষ আহত হয়। তাছাড়া সড়কের এক পাশে বাসগুলো সারিবদ্ধ দাড়িয়ে থাকায় মালামাল বহনকারী ট্রাক ও ভারী যানবাহন যাতায়াতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে চালক ও শ্রমিকরা অভিযোগে জানায়। 
 
অপরদিকে শরণখোলার তাফালবাড়ী-মোরেলগঞ্জ আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চাল রায়েন্দা এলাকায় সড়কের একপাশে দাড়িয়ে থাকায় ভ্যান রিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহন আসা যাওয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে বাস শ্রমিক ও পথচারীদের মাঝে বচশার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মোরেলগঞ্জেও বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় সেখানেও অনুরূপ সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ-মোংলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বাসস্ট্যান্ড না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বাস রাখতে হয়। এতে বিভিন্নভাবে তাদের বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শরণখোলার তাফালবাড়ী, রাজৈর ও মোরেলগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড এবং রায়েন্দা পাঁচরাস্তা মোড়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
 
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, যাত্রী ছাউনি ও বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুবিধামত জায়গা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ