বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আগেও একবার মাঠে নেমে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ড. কামাল ২০০৬ সালেও হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একই কথা বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এবং দরকার হলে শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে তা আর হয়নি। আমরা এই জোট করি না। গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্টনের মুক্তিভবনে ‘দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলো’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের নেতারা শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দাবি উত্থাপন করেননি। তারা বিএনপির সঙ্গে জোট প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করেছেন। মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে হেফাজতের ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন, যার নেতৃত্বে ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় সিপিবি অফিসে আগুন দেওয়া হয়।
সিপিবি সভাপতি বলেন, তারা যেসব দাবি করেছে, আমি আশা করব, এই দাবিতে তারা রাজপথে নামবে। প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনার যাওয়ার পথে দুই ফুট এগিয়ে আবার ফিরে আসবে না। তিনি জানান, সিপিবি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে কোনো মেরুকরণে যাবে না। এক দুঃশাসন শেষ হলে আরেক দুঃশাসন এসে পড়ে। তিন দশক ধরে আমরা এই অবস্থায় আছি। এই দুঃশাসনের দুষ্টুচক্র ভাঙতে হবে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সিপিবি সভাপতি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে তারা নির্বাচন বয়কট করতে পারেন, আবার অংশও নিতে পারেন। অংশ নিলে বামজোট ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ, সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রমুখ।
ইত্তেফাক/আরকেজি