ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশের থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিশ্চিদ্র সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো কোন গুজবে কান না দিয়ে নিশ্চিন্তে উৎসব করুন, পুলিশ নিরাপত্তা দিবে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দ্যেশে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোরঞ্জন মন্ডল, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি সেবা সংস্থার প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ সিটি করপোরেশন প্রতিনিধিরা।
সভার ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, বিগত সময় পূর্জামণ্ডপে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নেয়া পদক্ষেপ ছিল প্রশংসনীয়। এ জন্য বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি। আশা করি এবারও ঢাকাসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। পাশাপাশি আমরা আমাদের কিছু উদ্বেগের কথাও ডিএমপি কমিশনারকে অবহিত করেছি। কারণ আগামী ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে আদালত। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনও আসন্ন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে মহানগর পুলিশ প্রধানকে অনুরোধ করেছি যাতে কোন ধরনের অনাকাংখিত পরিস্থিতি না ঘটে।
প্রসঙ্গে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সভা শেষে জননিরাপত্তা সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ‘আপত্তিকর’ কিছু কারো চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় হেল্পডেস্ক- ৯৯৯ এ ফোন করে জানাতে অনুরোধ করেন। এছাড়া এ বছর সারাদেশে ৩০ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মোতায়েন থাকবেন এক লাখ ৭০ হাজার আনসার সদস্য।
আগামী ৮ অক্টোবর মহালয়ের মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে মূল পূজা। ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।
ইত্তেফাক/এমআই