সাংবাদিক মারধর, ছিনতাই ও ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবু হাসান সাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে ৭ জনকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানা যায়।
পরে আবার ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ‘৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে আবু হাসান বলেন, ‘৭ জনের বহিস্কারের প্রথম অফিস আদেশটি আমি ভালমতো যাচাই না করেই সাক্ষর করি। পরে প্রকাশের আগে যাচাই বাচাই করে ৪ জনের বহিস্কারের বিষয়টি প্রকাশ করি।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘ওই অফিস আদেশটি আমরা কোথাও প্রকাশ করিনি। এটা প্রকাশ করার পূর্বেই আমাদের কাছে ত্রুটি ধরা পড়েছে। তাই পরবর্তীতে আমরা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছি।’
বহিষ্কৃত ৪ ছাত্রলীগ কর্মী হলেন, বাংলা বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শুভাশীষ ঘোষ, লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের ইয়া রাফিউ শিকদার, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও মোঃ সোহেল রানা। এরা সবাই শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র। অন্যদিকে বহিষ্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২তম ব্যাচের নেজাম উদ্দিন নিলয়, লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের মোঃ আমিনুল ইসলাম ও মোঃ ইখতেয়ার উদ্দিন।
এ বিষয়ে মারধরের শিকার সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘নেজাম উদ্দিন নিলয়ের নেতৃত্বে আমাকে মারধর করা হয়। অথচ তাকে বাদ দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারজনকে বহিষ্কার করেছে। এটা খুব দুঃখজনক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ৭ জনকে বহিষ্কারের আবেদন চেয়ে সুপারিশ করেছিলাম। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিল্লাল হোসেন নামের এক বহিরাগত তার বান্ধবীকে নিয়ে জাবির সুইমিং পুল এলাকায় ঘুরতে আসে। সেখানে ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা বিল্লালকে মারধর করে ও তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময় ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত এই সাংবাদিক বাধা দিলে তাকেও মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীও মারধরের শিকার হয়। এই ঘটনায় ওই সাংবাদিক ও ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে গিয়ে রক্তপাত হয়।
ইত্তেফাক/নূহু