ভূমিকম্পে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ৬ লাখ শিশু

পালুতে অনেক শিশু-কিশোরকে রাস্তার উপর ধ্বংসস্তূপের মাঝে ঘুমাতে দেখা যায়। এসব শিশুর পরিচয় জেনে তাদেরকে তাদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিত করা কঠিন। অনেকের আবার পরিবারের সকল সদস্য নিহত হয়েছে।

 
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির পর এমন বহু শিশু-কিশোর তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রচুর সাহায্য প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার ত্রাণ কর্মীরা একথা জানান।
 
শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে সুলাওয়েসি দ্বীপে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪১১ জনের মৃত্যুর ও আড়াই হাজারের বেশি আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্র উপকূলবর্তী পালু নগরীতে বহু ভবন ধসে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পেীঁছানো যাচ্ছে না। এছাড়া সেখানে অহরহ লুটপাটের ঘটনা ঘটছে।
 
এদিকে ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ভূমিকম্প ও সুনামির ঘটনায় এখনো শতাধিক লোক নিখোঁজ রয়েছে।
IMG0
জীবিতদের মৌলিক চাহিদা পূরণে কর্মরত কর্মকর্তা ও বিদেশী ত্রাণ গ্রুপের সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পৌঁছেছে। সেখানে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ব্যাপক সংখ্যক শিশুর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
 
সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশু রক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা জুবেদি কোতেং বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য আরো ভীতিকর পরিস্থিতির কথা চিন্তা করা যায় না।’
 
তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বহু শিশু ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিশু তাদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে তাদের নিকট আত্মীয়দের খোঁজ করছে।
 
ভয়াবহ দুর্যোগ কবলিত এ ভাগ্যাহত শিশু-কিশোররা নিঃসঙ্গ ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।বুকভরা আশায় দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কিশোররা আপনজনদের খুঁজে ফিরছে।
 
ইত্তেফাক/টিএস