ভিডিও শেয়ারিংয়ের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক- ইউটিউবে রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ছড়ানোর অভিযোগে শিবিরকর্মীসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইউটিউব চ্যানেল এসকেটিভি’র অ্যাডমিন খালেদ বিন আহমেদ ও তার সহযোগী মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ। তাদের মধ্যে খালিদ ছাত্রশিবির করেন।
গত শুক্রবার দিনগত রাতে র্যাব রাজধানীর উত্তরা-১৩ নম্বর সেক্টর থেকে তাদের গ্রেফতার করে। আজ শনিবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম এ সব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে খালেদ ইউটিউবে এসকেটিভি নামের একটি চ্যানেল পরিচালনা করে আসছিলেন। তার চ্যানেলে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিমূলক গুজব প্রচার করা হত। বিভ্রান্তিমূলক গুজবকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য ভিত্তি হিসেবে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত খবরের অংশবিশেষ ব্যবহার করা হত। এর সঙ্গে মনগড়া তথ্য ও ভয়েস যোগ করে ছড়ানো হত গুজব। সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে বিতর্কিত এবং কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে মনগড়া বক্তব্যযুক্ত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা উস্কানি ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
র্যাব জানায়, খালেদ বিন আহমেদ ২০১৪ সালে হাজীগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ অফ এডুকেশনে বিবিএতে ভর্তি হন। অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি হাজীগঞ্জ ক্যামব্রিয়ান স্কুলে ছয় মাস খণ্ডকালীন চাকরি করেন। ২০১৬ সালে তিনি ছোট ভাই গোলাম মাওলা নাহিদের মাধ্যমে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড ও এডিটিং করার কাজে যুক্ত হন। খালিদ ছাত্রশিবির ও তার বাবা জামায়াতের সঙ্গে জড়িত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানান, তিনি বিভিন্ন ভিডিওতে কণ্ঠ দিতেন এবং তার সহযোগী হিজবুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ছবি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে তা ইউটিউবে আপলোড করত।
র্যাব হিজবুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, তিনি বর্তমানে মহাখালীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিবিএতে অধ্যয়নরত। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি কিছুদিন শাহজাদপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে খালেদ বিন আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর খালেদ তাকে ইউটিউব চ্যানেল সংক্রান্ত কাজের প্রস্তাব দেয়। তখন থেকে তিনি (প্রায় দেড় বছর) ওই চ্যানেলের সঙ্গে জড়িত।
ইত্তেফাক/এমআই