সোমবারের মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। অন্যদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিল চাইনি উল্লেখ করে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। রবিবার পৃথক পৃথক কর্মসূচি থেকে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন।
আজ সন্ধ্যায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটা বহালের দাবিতে অবরোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, যেভাবে আমাদের বাবা-ভাইয়েরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, আমরাও সেইভাবে যুদ্ধ করে দাবি আদায় করব। প্রয়োজনে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে।
রবিবার সারাদেশে কর্মসূচি পালন করায় তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ধন্যবাদ প্রদান করে বলেন, সোমবারের মন্ত্রী পরিষদের সভায় ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকবেন। আমরা আশা করছি এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার করার জন্য মন্ত্রী পরিষদ সচিব পদত্যাগ করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। এ সময় তিনি দাবি আদায় না হলে সারাদেশ অচল করে দেয়ারও হুমকি দেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও পোষ্যদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বহাল চেয়ে সারাদেশের স্থলপথ, নৌ পথ, রেলপথ অবরোধের ঘোষণা ঢাবির এই অধ্যাপক। কিন্তু রবিবার সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত শাহবাগে কোনো অবরোধ ছিল না। যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পরে বিকেলে তিনটার দিকে এসে তারা মোড় অবরোধ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে না, ততদিন পর্যন্ত শাহবাগে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি ও সারা বাংলাদেশে একই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
IMG0
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব রকমের কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর থেকে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কোটা বাতিলে উদ্ভূত সমস্যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে:
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ফলে যে উদ্ভূত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর নেতা হাসান আল মামুন বলেন, আমরা সকল সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করি, তাই আমরা কখনই কোটার বাতিল চাইনি। আমরা সবসময় পাঁচ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছি। তাই এই কোটা বাতিলের কারণে উদ্ভূত সমস্যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি চাকরিতে কোন বিশেষ নিয়োগ দেয়া যাবে না। বিশেষ নিয়োগ ছাত্রসমাজ মেনে নিবে না। সেই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতেও কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই আহ্বায়ক বলেন, ছাত্র সমাজের নামে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক যেসকল মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এসময় তিনি নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রিলিমিনারী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।
IMG1
প্রতিবন্ধীদের পাঁচ শতাংশ কোটা দাবি:
এদিকে, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ কোটা সংরক্ষণসহ ১১ দফা দাবিতে প্রতিবন্ধীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। রবিবার বেলা দুইটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র ব্যানারে শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভ করেন।
আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, সবাই জানে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা দেয়া। কিন্তু সত্যিকার অর্থে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো কোটা নেই। ২০১২ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধীদের কোটা সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেখানে দু’টি ধারা ছিল। প্রথম ধারায় বলা হয় প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা রাখতে হবে। আর দ্বিতীয় ধারায় বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা, নারী, উপজাতি এ সব কোটার ক্ষেত্রে যদি কোনো আসন খালি থাকে সে ক্ষেত্রে যোগ্য প্রতিবন্ধী থাকলে তাদের দিয়ে আসন পূরণ করা যেতে পারে। এটা তো কোনো কোটা হলো না। এ জন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের জন্য তারা আন্দোলন করছেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/এমআই