এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে তাদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। সেইসঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরিসহ রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে এগুতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়ন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংলাপে বক্তারা একথা বলেন, সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদারীপুর পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, ঢাবি অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী উম্মে শেফা রেজবানা। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারা উল্লেখ করেন, বাজেটের অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনেক ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়। যে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটি পর্যাপ্ত নয়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সমর্থক তারা বিশেষ বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। মূলত দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীনদের আগ্রহ বেশি থাকে। স্থানীয় সরকারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। এসডিজির জন্য প্রতিটি নগর পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। আলাদা আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে বরাদ্দ দিতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে পৃথিবীর অনেক দেশে স্থানীয় সরকার কমিশন রয়েছে। বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করার প্রয়োজন রযেছে। এই কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে কোন পৌরসভায়, উপজেলা ও ইউনিয়নে কত টাকার বাজেট লাগবে, তা নির্ধারণ করবে। একইসঙ্গে কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এই কমিশন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বৈরী রাজনীতি কিংবা বিভিন্ন কারণে চেয়ারম্যানদের বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু কমিশন থাকলে তারা একটা প্রটেকশন পাবে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমিক শিক্ষা, প্রথামিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দিতে হবে। তবে দেখতে হবে এগুলো পরিচালনা করার সক্ষমতা আছে কি না। স্থানীয় সরকারের সম্পদ আহরণের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের সম্পদের উত্স বাড়াতে হবে। কিছু কিছু আইন সংস্কার করতে হবে।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে, না হলে আমরা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারব না। তবে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার একমাত্র উপায় হাচ্ছে রাজস্ব আহরণ। কৃষিখাতকে অটোমেশনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের আয় বাড়িয়ে তাদের করযোগ্য করে স্থানীয় সরকারের আয় বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাদারীপুর পৌর মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছর প্রত্যেক জেলার ডিসিদের ঢাকায় এনে জেলা প্রশাসক সপ্তাহ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সবাই তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এমনিভাবে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকগণ বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া নারী ও প্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।