রেজাউল হক কৌশিক
স্বল্প সময়ে কম শ্রমিক ব্যবহার করে একইসঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে ব্যবহার করা হয় কম্বাইন হারভেস্টার। একইভাবে গমও কাটা থেকে শুরু করে বস্তাবন্দি করা যায়। কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে উন্নত প্রযুক্তির এ মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন মাঝারি এবং বড় কৃষকরা। মেশিনটির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কম খরচে বেশি ফসল উত্পাদন সম্ভব। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসাবে এ মেশিন কিনতে এখন সরকার থেকে কম্বাইন হারভেস্টারের দামের প্রায় এক তৃতীংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। এলাকাভেদে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা ভর্তুকি হিসাবে পাচ্ছেন কৃষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, হাতে কাটতে বা ম্যানুয়ালি ফসল কাটতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে কাটলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন, ম্যানুয়ালি ৫ শতাংশ ফসল এর অপচয় হয় কিন্তু মেশিনে মাত্র ২ শতাংশ অপচয় হয়। মেশিনে একজন ড্রাইভার ও সহযোগী হলেই চলে। সব আবহাওয়া ও আদ্রতায় ফসল কাটতেও পারদর্শী এ মেশিন। সেই সাথে এই মেশিন দিয়ে কাটার পর খড় আস্থ থাকে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের অধ্যাপক মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, বর্তমানে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের অভাব প্রায় ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে কয়েক গুণ। এমতাবস্থায় কৃষিকে লাভজনক করার একমাত্র পথ কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ। গত কয়েক দশকের ব্যবধানে কৃষিতে বেড়েছে শ্রমিক সংকট তেমনি ধারাবাহিকভাবে কমছে কৃষি জমি। এ অবস্থায় শ্রম ও সময় সাশ্রয়ের জন্য কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে কৃষি যন্ত্রপাতি।
দি মেটাল (প্রা.) লিমিটেড চায়নার ওয়ার্ল্ড কম্বাইন হারভেস্টার বাংলাদেশে সরবরাহ করে। এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল বলেন, দেশের কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য মেটাল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ফসলের উত্পাদন যেমন বাড়বে, তেমনি শ্রমিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড কম্বাইন হারভেস্টারের দাম ১৮ লাখ টাকা। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে এ যন্ত্রের দাম আরো কম পড়ে।
ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে সময় বাঁচায় ৭০-৮২ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশ কম শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। প্রতি একর জমির ধান কাটা এবং মাড়াই, পরিষ্কার, এবং প্যাকেটজাত করতে ১২ থেকে ১৪ লিটার তেল বা মাত্র দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। যেখানে এলাকাভেদে ম্যানুয়ালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে রাইচ ট্রান্সপ্লান্টার, কম্বাইন হারভেস্টারসহ আরো কিছু মেশিনের উপর সরকারি পর্যায় ভর্তুকি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেননা চাষাবাদে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উত্পাদন খরচ কমানো ও উত্পাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।