ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ব্যারেল প্রতি ৬৬ ডলারের মধ্যে থাকবে। আগামী বছর অর্থাত্ ২০২০ সাল নাগাদ এটি গড়ে ৬৫ ডলারের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিত্যপণ্যের বাজারের পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এবারের এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ধীরে এগুচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। ফলে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। এর ফলে জ্বালানির চাহিদাও কমেছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি বিশ্ববাজারে ধাতব ও কৃষিপণ্যের দর যে হারে কমেছিল তাতে এ বছর কিছুটা বাড়তে পারে। মূলত চীনের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দর কমেছিল। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কৃষিপণ্যের দাম এবছর ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে। তবে ২০২০ সাল নাগাদ বৃদ্ধি পাবে। মূলত উত্পাদন কম হওয়ার প্রভাবে এবং জ্বলানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী বছর কৃষিপণ্যের দর বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে জ্বালানির দরে ব্যাপক পতনের পর এবছরের শুরুর দিকে বাড়তে থাকে। তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক জ্বালানি উত্তোলন কমিয়ে আনায় এর দর বাড়তে থাকে। তাছাড়া ওপেকের বাইরে ভেনিজুয়েলা ও ইরানও তেল উত্তোলন কমিয়েছে। জ্বালানি তেলসহ গ্যাস ও কয়লার দাম এবছর ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গেল বছর চীন-মার্কিন পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পর বিশ্ববাণিজ্যের গতি ব্যাপক হারে কমে যায়। গেল জানুয়ারিতে দুই দেশের বিরোধ নিয়ে আলোচনার সুবাতাসে বিশ্ববাণিজ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করা হচ্ছে। এবারের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০১৬-১৭ সালের মতো প্রকৃতিতে এলনিনোর প্রভাব এবং আখ এর মতো খাদ্য উপাদান দিয়ে বায়োফুয়েল তৈরির প্রবণতা খাদ্য উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিশ্ববাণিজ্যেও পড়বে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবছর শুরুর দিকে কয়লার দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। সারের দামের সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৪ ভাগ। ধাতব পণ্যের দাম এবছর শুরুতে বেড়েছে ১ দশমিক ৭ ভাগ। সোনা-রুপার মতো উচ্চমূল্যের ধাতব পণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।