আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের মানুষ আন্দোলন নয়, নির্বাচন চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। বিজয় ছাড়া কোন উপায় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি। এবার আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা লড়াই করে ক্ষমতায় আসতে চাই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে বাটি চালান দিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর সাহেববাজার বড় রাস্তায় স্থানীয় ১৪ দল আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের রক্তে ভেজা রাজশাহীর মাটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে সারাদেশে। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বন্ধ করে এবারের নির্বাচনে বিএনপিকে প্রস্তুত হওয়ার অহ্বান জানাচ্ছি। বিনা খেলায় আর গোল দিতে চায় না ১৪ দল। মেসি, নেইমার গোল মিস করতে পারে, কিন্তু শেখ হাসিনা করবেন না।
দেশে বিদ্যুতের উন্নয়ন, শস্য উৎপাদন, জঙ্গীবাদ দমন, রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। দেশের মাটিতে সুষ্টু নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা করতে চাই। ষড়যন্ত্রকারীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে জনসভায় ১৪ দলের অন্যতম শরীক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, সাম্যবাদী দলের সভাপতি, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহিদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান ও রেজাউল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ভোট ছাড়াই বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা দখল করতে চায়। রাজশাহীতে লিটন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ায়। এই রাজশাহীতে বিএনপি বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমানের জন্ম দিয়েছিলো। জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিলো। আমরা শক্ত হাতে তাদের মোকাবেলা করেছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর মেয়র পদে লিটনের বিজয়ের জন্য সবাই একযোগে কাজ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে রাজশাহীতে যাকে মনোনিত করা হবে তার বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে না আসলে তাদের কবর নিজেই খুড়বেন।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাবলু ও জাসদের মহানগর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ শিবলীর পরিচালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী ও মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি এনামুল হক, এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা, এমপি আয়েন উদ্দিন, এমপি বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার, এমপি আখতার জাহান, সাবেক মন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার এনামুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, পাবনার চেয়াম্যান রেজাউল করিম লালসহ স্থানীয় ১৪ দল, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের লাখো নেতাকর্মী।
রাশেদ খান মেনন বলেন, উন্নয়নের গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখবো, নাকি বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের দিনগুলোকে বেছে নিবো? এ ব্যাপারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজশাহীতে বাংলা ভাই, শায়েখ আবদুর রহমান ও জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি, আন্দোলন করেছি। রাজশাহীতে থেকে জঙ্গীদের বিতাড়িত করে জয়ীও হয়েছি। নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠে। এখন বিএনপি রাজনীতিকে বর্গা দিচ্ছে। শুনেছি জমি, গরু, ছাগল বর্গা দেওয়ার কথা জানি, কিন্তু রাজনীতি বর্গা দেয় জানি না। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের ঐক্য টিকবে না। পরিবর্তন হবে। বিএনপির রাজনীতির পরিবর্তন করবে জনগণ। দেশ এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। রাজশাহীতে মেয়র লিটনের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কোনদিন হয় নি। রাজশাহীর মানুষ এগিয়ে যাবে।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আজকের সমাবেশ প্রমাণ করে, রাজশাহীর মাটি ১৪ দলের ঘাঁটি। বিগত সিটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে ১৪ দলের ঐক্য সুদৃঢ় হয়েছে। ড. কামাল হোসেন, আবদুল মান্নান, বি. চৌধুরী জাতীয় ঐক্য গঠন করতে চান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের পরাজিত করতে চান। তারেক রহমানকে বাঁচানোর জন্য তাদের এই জাতীয় ঐক্য গঠনের সিদ্ধান্ত। এটা মীর জাফরদের ঐক্য, ষড়যন্ত্রের ঐক্য। কোনো ষড়যন্ত্র টিকে না। আগামী সরকার বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শেখ হাসিনার সরকার হবে। নৌকার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আমরা পাকিস্তানিদের পক্ষে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। মজবুত ও দৃঢ় ঐক্যের বিকল্প নেই। ঐক্যতাই হবে মূলকান্ডারি।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন খুব লাফালাফি করেছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে দেশ ও রাষ্ট্রীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বিএনপি এখন বিড়ালে রূপ নিয়েছে। মানুষ ভোটের অধিকার চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ। আর বিএনপি জনসমর্থনহীন দল ও নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঐক্যের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। তারা যেনো নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার বানচাল করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র নস্যাত করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে ১৪ দলকে আবারও ক্ষমতায় আসনে হবে।
রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেছে। আবারও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ১৪ দলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াত কোথাও যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে। অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করলে অন্ধকারের কীটদের দেশ থেকে বিতারিত করা হবে।
সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেন, বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে রাজশাহীতে জনসভা করেছিলাম। এই রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে জঙ্গিবাদের অবির্ভাব হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আজকের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওইদিন তারা গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যা করেছিল। এখনো অনেকে সেই হামলার ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন। যা জনগণ ভুলেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য বাংলার মানুষ বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। শিল্প সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হয়েছেন। দেশ দু’ভাগে বিভক্ত। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের। বিএনপি উন্নয়নের কর্মসূচি না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। এ আশা তাদের কোনদিন পূরণ হবে না।
তিনি আগামী নির্বাচনে রাজশাহীর মানুষকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
ইত্তেফাক/নূহু