নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল: সৌম্য

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক উল্কার মতো আবির্ভাব সৌম্য সরকারের। নিজের দিনে কচুকাটা করে ফেলতে পারেন যে কোনো বোলিং। কিন্তু আরো একবার ফর্ম হারিয়ে ধুঁকছিলেন ঢাকা লিগে। সেই লিগেই রেকর্ড তছনছ করে ফর্মে ফিরলেন। বিশ্বকাপের আগে নিজের এ ফর্ম, ডাবল সেঞ্চুরির রহস্য ও মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন সৌম্য সরকার।

তার একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

শেষ দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি। শেষ ইনিংসে রেকর্ড করা ডাবল সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের আগে আগে এই পারফরম্যান্স আপনি নিজে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ভালো লাগছে। এরকম বড়ো ইনিংস খেলতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমি চেষ্টা করছিলাম, বড়ো ইনিংস খেলার। সেটা পারায় ভালো লাগছে। এরকম যদি খেলে যেতে পারি, খুব ভালো হবে। আর বিশ্বকাপের আগে মনে হয় এরকম দুটো ইনিংস খেলায় ভালো আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে যেতে পারব।

১৬টা ছক্কা মেরেছেন। রহস্যটা কী?

কোনো বাড়তি রহস্য নেই। ব্যাটে-বলে ভালো হয়েছে। আমার জোনে অনেক বল পেয়েছি। চেষ্টা করেছি, যেটা মারব, কোনো কনফিউশন নিয়ে মারব না। ছক্কা মারলে মেরেই দেব, এটা মনে ছিল।

আপনি জানতেন যে, ১৬টা ছক্কা বাংলাদেশের রেকর্ড?

নাহ। জানতাম না। ম্যাচের পর কে যেন বলছিল, রেকর্ড হয়নি। আরো দুটো ছক্কা লাগত। পরে শুনলাম, রেকর্ড হয়ে গেছে।

৩১৭ রান তাড়া করলেন এক উইকেট হারিয়ে। ৩১২ রানের জুটি করলেন। এটা কীভাবে হলো?

তিন শ রানের বেশি চেজ করা সব সময়ই কঠিন। ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে ভাবছিলাম আগের ম্যাচে আমরা তিন শ করছিলাম, রূপগঞ্জ একটু তাড়াহুড়া করেছিল। আমরা ঠিক করেছিলাম, আমরা সেভাবে তাড়াহুড়া করব না। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। আমরা পরিকল্পনা করছিলাম, স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব। প্রথম ১০ ওভারে যদি ৪০ রানও হয় কোনো সমস্যা নেই। এই উইকেটে যখন তখন মারা যায়। বল ব্যাটে আসছিল।

ডাবল সেঞ্চুরির চিন্তাটা মাথায় এলো কখন?

১৯০ রানের পর। তখন মনে হচ্ছিল না সুযোগটা ছাড়া যাবে না। যেকোনো উপায়ে করতেই হবে। একটু নার্ভাসও মনে হচ্ছিল নিজেকে। মনে হচ্ছিল, কোনোভাবে বাই রান হয়ে গেলে অমি ভাইয়ের সেঞ্চুরিটা হবে না, আমারো (ডাবল) হবে না। তাই ওই সময় সিঙ্গেল নিয়ে খেলেছি।

লিগের লম্বা একটা সময় ধরে রান পাচ্ছিলেন না। সেই সময় থেকে এ রানে আসার পরিবর্তনটা কীভাবে হলো?

ব্যাটিংয়ে তো তেমন কোনো পার্থক্য নেই। আগের ম্যাচগুলোতে আক্ষেপ হচ্ছিল, শুরুতে ৩০-৪০ করে আউট হচ্ছিলাম। মাঝে কিছু ম্যাচে ১-২ রান করেও আউট হয়েছি। পরে মনে হলো ১, ২, ০ রানের চেয়ে তিরিশ চল্লিশ করা ভালো, ওটাতে আগে ফিরতে হবে। এদিন যখন ৩০ রান করে ফেলেছি, ঠিক করেছি, আরেকটু বড়ো ইনিংস খেলতে হবে। মাঠে বসে নিজেকে একটু একটু করে বড়ো টার্গেট দিয়েছি।

খারাপ সময়টাতে নিজেকে শক্ত রেখেছিলেন কীভাবে?

পজিটিভ ছিলাম। আমি সবসময় মনে করেছি, এ সময় থাকবে না। আমি রান পাব। এ বিশ্বাসটা নিজের ওপর রেখেছি। আমার কখনো মনে হয়নি যে, আমি রান থেকে অনেক দূরে আছি। আমার মনে হয়, এ বিশ্বাসটাই বড়ো ব্যাপার।

যখন রানে থাকেন না, ফেসবুক বা অন্যান্য জায়গায় অনেক সমালোচনা হয়। এগুলো প্রভাব ফেলে?

খুব একটা না। দেখি, কিন্তু খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেই না। তবে একটা জিনিস আমার ভালো লাগে। যারা রানে না থাকলে মন্দ বলেন, তারাই কিন্তু ভালো করলে প্রশংসা করেন। মানে, ওনারা চান, আমি ভালো করি। এ জন্য সমালোচনাটাকেও আমি ভালোভাবে নেই।

ওয়াসিম জাফরের সঙ্গে নাকি ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছেন?

ঠিক কাজ করা নয়। ওনার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি তো একজন লিজেন্ড। এতো এতো রান করাটা তো ছেলেখেলা নয়। ওনার প্র্যাকটিস, ফোকাস থাকা; এগুলো দেখেছি। এর কিছু প্রভাব পড়েছে।