শাবিতে ভর্তি যুদ্ধে ৭৬ হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী

শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এখন সিলেট নগরী মুখরিত। এবার ভর্তি যুদ্ধে নেমেছে ৭৬ হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী। প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছেন কম করে হলেও দুজন অভিভাবক। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীরা এসেছেন সিলেটে। নগরীর হোটেল-মোটেল কোথাও তিল ধরণের ঠাঁই নেই। এমনকি আন্তজেলা ট্রেন বাস সব ধরনের যানবহনে চলছে টিকেট সংকট।
 
শিক্ষার্থীদের অনেকে হোটেলে উঠেছেন, আবার কেউ কেউ মেসে-বাসাবাড়িতে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। শুক্রবার দিনভর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। নগরীর বিভিন্ন খাবারের রেস্টুরেন্টে ভিড় লেগেই আছে।
 
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ ইউনিটের ও বেলা আড়াইটায় বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার এ ইউনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টিসহ মোট ৩৫টি কেন্দ্রে ও বি ইউনিটে মোট ৫৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭০৩টি আসনের বিপরীতে এবার আবেদন করেছে ৭৬ হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে ৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মোট ২৮টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে এ ইউনিটের অধীনে ৯টি এবং বি ইউনিটের অধীনে ১৯টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
 
ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কয়েকদিন ধরে ভর্তি জালিয়াতি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার দিন সিলেট নগরীতে দুইটি মোবাইল কোর্ট কাজ করে। সহযোগী অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
 
এদিকে, এই বছর ভর্তি পরীক্ষায় গতবারের থেকে সর্বমোট ১৪টি আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, কোটায় সর্বমোট ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হবে। তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ২৮ জন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/জাতিসত্বা/হরিজন-দলিত ২৮, প্রতিবন্ধী ১৪, চা-শ্রমিক ৪, বিকেএসপি ৬ ও পোষ্য কোটা ২০-বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হবে।
 
এবারই প্রথম চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু