রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও আগামীতে সব নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অল্প সময়ের মধ্যে দেড়লাখ ইভিএম ক্রয় করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ইভিএম ইসিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগামী ৫ মে অনুষ্ঠেয় ময়মনসিংহ সিটির ভোট পুরোপুুরি ইভিএমে অনুুষ্ঠিত হবে। আগামী স্থানীয় সরকারের পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পুরোপুরি ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্ধেক আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এখন থেকে সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে করা হবে। উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদ যেখানে ভৌগোলিক কিছু বিচ্ছিন্নতা আছে। কম্পেক্ট এরিয়া নয়। সেখানে ইভিএম নয়। কিন্তু যেগুলোতে বিদ্যুত্ আছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেসব উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ বেছে বেছে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা শতভাগ না হলেও ফিফটি পারসেন্ট আসনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
২০১০ সালে বুয়েটের উদ্ভাবিত প্রায় সাড়ে ১১শ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নষ্ট করে নিজেদের তৈরি ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয় কমিশনে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এসব ইভিএম সরবরাহ করছে। প্রতিটি ইভিএম ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার ৩২৫ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা) প্রতিটি ইভিএম ক্রয়ে ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৫ টাকা। যদিও বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করে ইসি।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল ইসির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসির সচিব বলেন, ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহ করছি। এগুলোতো সংগ্রহ করে রাখার জন্য নয়। জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এই প্রকল্পটা গ্রহণ করা হয়।
সরকার বলেছে যে, সব জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনেও এটা ব্যবহার করা হোক। এতোগুলো ইভিএম কেন আমরা ব্যবহার করব না। প্রকল্প যখন আমরা নিয়েছি, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিএমটিএফ এই মেশিনগুলো আমাদেরকে সাপ্লাই করছে। এতোগুলো লোককে আমরা প্রশিক্ষিত করেছি, আমাদের প্রত্যেকটি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কয়েকটি বিষয় আসে, সেটি হলো দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়, বাংলাদেশে প্রচলিত যে অনিয়মগুলো হয়, সেটা আর হবে না, ভোটারদের আস্থাটা বাড়বে, ব্যালট পেপারের কাগজ সাশ্রয় হবে। ইভিএমের মাধ্যমে ভারতের লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে।
ইসির সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, ফিঙ্গার প্রিন্টযুক্ত ইভিএম আগামীতে বিদেশে রপ্তানি করা হবে। ইতোমধ্যে তিনটি দেশ থেকে নাকি যোগাযোগও করা হয়েছে। তবে বরিশাল এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমে ব্যাপক কারগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তাছাড়া সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে ইভিএমে কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করতে রাত ১২টা লেগে যায়।
ইভিএমের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও এনআইডির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেড়লাখ ইভিএম বুঝে নেব। ইতোমধ্যে মেশিনগুলো বিএমটিএফের কাছে আছে। আপাতত ৩২ হাজার মেশিন আমাদের কাছে সংরক্ষিত। দেড়লাখের মধ্যে ৮২ হাজার মেশিনের চাহিদা এ মুহূর্তে আছে। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় সব মেশিন পাওয়া যায়নি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সব মেশিন পেয়ে যাব।