সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা দরকার

ঢাবিতে ব্লু ইকোনমি শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির নিচে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। এসব সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে আমাদের পর্যাপ্ত ধারণা ও তথ্য নেই। এসব সম্পদ আহরণের জন্য আমাদেরকে ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান, জরিপ ও গবেষণা করতে হবে। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ, গ্রীনটেক ফাউন্ডেশন, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ‘সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অফ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবি সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কাউসার আহাম্মদ। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকার জার্মান দূতাবাসের উপ-প্রধান মি. মাইকেল সুলথেইস, গ্রীনটেক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লুত্ফর রহমান এবং সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম। দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং পেশাজীবীরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের দুটি আলাদা ও সমাপনী সেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, ভারতের মেরিন বায়োলোজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এস.ডি সব্যসাচী মজুমদার, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। তাঁরই নেতৃত্বে আমরা জলে-স্থলে ও আকাশে সর্বত্র বিচরণ করছি। তিনি বলেন, আমরা একসময় দেশের আয়তন নিয়ে আফসোস করতাম। কিন্তু যতটুকু ভূমি আমাদের পায়ের নিচে আছে, তার চেয়ে বেশি আছে সমুদ্রে। বিশাল জলরাশি এবং তার নিচে আছে বিশাল সম্ভাবনাময় সম্পদ। তিনি সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রণয়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদেরকে টেকসই নীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশকে আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদেরকে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রসহ সামুদ্রিক সম্পদ অন্বেষণ ও আহরণ করতে হবে।

সম্মেলনে ‘ব্লু ইকোনমি: লিভিং এন্ড নন লিভিং রিসোর্সেস’ শীর্ষক সেশনে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, আমাদের দেশের সম্পদগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা দেশকে দারিদ্র্র্যসীমার নিচে নিয়ে আসতে পারব।